তৃণমূল-কংগ্রেস-সপা এক হয়ে মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে! লোকসভায় হারের পর বিস্ফোরক প্রধানমন্ত্রী

লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। আর এই ঘটনার পরেই শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাষণের শুরুতেই দেশের কোটি কোটি মহিলার কাছে ক্ষমা চাইলেন তিনি। একই সঙ্গে এই বিলটি আটকে দেওয়ার জন্য সরাসরি কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন প্রধানমন্ত্রী।

“ক্ষমতা ছিল না, তাই ক্ষমা চাইছি”

গতকাল লোকসভায় ভোটাভুটিতে বিলটি পাস করতে ব্যর্থ হয় সরকার। এই নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে মোদী বলেন, “আপনাদের যে অধিকার আমি দিতে চেয়েছিলাম, বিরোধীরা তা একজোট হয়ে আটকে দিয়েছে। আমি অত্যন্ত ব্যথিত। দেশের সমস্ত মা ও বোনেদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি যে সংসদে সংখ্যাবলঘিষ্ঠতা না থাকায় এই ঐতিহাসিক কাজটিতে বাধা এল।”

টার্গেট চার বিরোধী দল

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে নাম করে আক্রমণ শানান চার প্রধান বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ:

  • কংগ্রেস, তৃণমূল (TMC), সমাজবাদী পার্টি (SP) এবং ডিএমকে (DMK)—এই দলগুলো একজোট হয়ে মহিলা সংরক্ষণের পথে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে তারা দেশের অর্ধেক আকাশকে অন্ধকারে ঠেলে দিল।

  • এই বিলটি পাস হলে ২০২৯-এর লোকসভা থেকেই মহিলারা সরাসরি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ পেতেন, যা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

ধাক্কা খেল লোকসভার আসন বৃদ্ধির পরিকল্পনাও

সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাস না হওয়ায় শুধুমাত্র মহিলা সংরক্ষণই নয়, বড়সড় ধাক্কা খেল লোকসভার আসন বাড়ানোর পরিকল্পনাও। সরকারের লক্ষ্য ছিল লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০-এ নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় ৩৫২টি ভোট না মেলায় (বিলের পক্ষে ২৯৮, বিপক্ষে ২২৩) সেই পরিকল্পনাও আপাতত বিশ বাঁও জলে।

লড়াই চলবে, বার্তা মোদীর

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই হার আসলে সাময়িক। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “এনডিএ আপনাদের অধিকারের লড়াই থেকে সরে আসবে না। যারা আজ হাততালি দিচ্ছে নারীদের বঞ্চিত করে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy