নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলায় বড়সড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে হলফনামা দিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত। ভোটের মুখে এই নির্দেশ কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মামলার উৎস: তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সরিয়ে যে নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, তার প্রক্রিয়া সঠিক নয়। তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে এমন কিছু আধিকারিককে আনা হচ্ছে যারা পরোক্ষভাবে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে। এই নিয়োগের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল শাসকদল।
আদালতের কড়া নির্দেশ: শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট জানান যে, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কমিশনের হাতে থাকলেও স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনো আপস করা চলবে না। আদালত নির্দেশ দিয়েছে:
তৃণমূলের তোলা অভিযোগগুলোর ওপর ভিত্তি করে কমিশনকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হলফনামা পেশ করে জানাতে হবে, ঠিক কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে এই আধিকারিকদের বাছাই করা হয়েছে।
পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমানসে যেন কোনো বিভ্রান্তি না থাকে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: আদালতের এই নির্দেশকে নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে ঘাসফুল শিবির। দলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা শুধু চাই নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হোক। কিন্তু কমিশনের কিছু সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট মনে হওয়ায় আমরা আইনি পথে গিয়েছি।”
কমিশনের অবস্থান: কমিশন সূত্রে খবর, আদালতের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আইনি পথে জবাব দেওয়া হবে। তাঁদের দাবি, সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী এবং সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনেই সমস্ত নিয়োগ করা হয়েছে।
উপসংহার: কালকের দিনটি রাজ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কমিশনের জবাব যদি আদালতকে সন্তুষ্ট করতে না পারে, তবে ভোট পরিচালনার প্রক্রিয়ায় বড় কোনো বদল আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।





