২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার সরকার গঠনের তৎপরতা তুঙ্গে। বুধবার নবান্নে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের ভবিষ্যৎ এবং রণকৌশল নিয়ে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য— ‘বিজেপির কোনোভাবেই তৃণমূলীকরণ হবে না।’ অর্থাৎ, জয়ের আনন্দে মেতে উঠে শাসক দলের পুরনো ছকে হাঁটার কোনো প্রশ্নই নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি।
নবান্নে আজকের বৈঠকটি ছিল মূলত প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আগামী ৯ মে ব্রিগেডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার জন্য। বৈঠক সেরে বেরিয়েই শমীক ভট্টাচার্যকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা। সেখানেই তিনি দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। গত কয়েক বছরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ তুলে বিজেপি লড়াই করেছে, সেই একই পথে যাতে দলের নেতা-কর্মীরা পা না বাড়ান, সেটাই ছিল তাঁর বার্তার মূল নির্যাস।
শমীকের কড়া বার্তা: শমীক ভট্টাচার্য এদিন স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। তিনি বলেন, “মানুষ আমাদের যে বিপুল জনাদেশ দিয়েছে, তা রক্ষা করাই আমাদের কাজ। তৃণমূলের সংস্কৃতি বিজেপিকে স্পর্শ করতে পারবে না। আমরা এক নতুন এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা উপহার দিতে চাই।”
নবান্ন থেকে ব্রিগেড: নবান্নের বৈঠক শেষ করেই শমীক ভট্টাচার্য চলে যান ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। আগামী শনিবার এই মাঠেই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। সেখানে প্রস্তুতির কাজ কতটা এগোল, তা নিজে হাতে তদারকি করেন তিনি। সূত্রের খবর, এই মেগা শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন।
বিজেপির এই ‘তৃণমূলীকরণ’ না হওয়ার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জয়ের পর দাপুটে মেজাজে থাকা নেতা-কর্মীদের রাশ টানতেই কি শমীকের এই মন্তব্য? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে। আগামী ৯ মের শপথের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।





