তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ! সংসদীয় সংকট নিয়ে অভিষেককে তলব লোকসভার অধ্যক্ষের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা দীর্ঘস্থায়ী বিদ্রোহ ও সংসদীয় দলের বিভাজন নিয়ে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। দলীয় ভাঙন সংক্রান্ত বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শুনতে তাঁকে আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) বৈঠকের জন্য তলব করেছেন অধ্যক্ষ। সূত্রের খবর, সংসদের উচ্চ পর্যায়ে তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ আলোচনার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান: নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন কার্যত দাবানলের আকার নিয়েছে। বিধায়কদের পর এবার সাংসদদের একাংশও নেত্রীর বিরুদ্ধে সরব। ইতিমধ্যে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। যা দলের জন্য এক বড়সড় রাজনৈতিক ধাক্কা।

অভিষেকের পাল্টা কৌশল: পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ১০ জুন লোকসভার অধ্যক্ষকে একটি জোরালো চিঠি পাঠিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি সাফ জানিয়েছেন:

  • তৃণমূলকে কেবল একটি ‘একক রাজনৈতিক দল’ হিসেবেই গণ্য করতে হবে।

  • দলীয় হুইপ বা অনুমোদিত নেতার বাইরে কোনও তথাকথিত ‘আলাদা গোষ্ঠী’কে সংসদে কোনও স্বীকৃতি বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া চলবে না।

  • মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংকটের সময় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক দাবি করেছেন, দশম তফসিল অনুযায়ী এখন আর ‘দল ভাঙা’ বা ‘বিভাজন’ দেখিয়ে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই।

তৃণমূলের অন্দরে ধোঁয়াশা: যদিও সংসদীয় সূত্র থেকে এই বৈঠকের খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে, তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত তৃণমূলের অন্দরমহলে এ নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা রয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত অধ্যক্ষের দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বার্তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি।

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ১৯ জুনের এই বৈঠক তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার অধ্যক্ষকে কী যুক্তি দেন এবং স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দিল্লির রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy