তৃণমূলের অন্দরে ‘বিদ্রোহ’ নাকি পুলিশি বাধা? কালীঘাটে মমতার বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক!

রাজ্য রাজনীতিতে এখন কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দলের দুই শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় শাসকদলের অন্দরে অস্থিরতা চরমে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই রবিবার বিকেলে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ডাকা হয়েছিল তৃণমূলের নবগঠিত পরিষদীয় দলের জরুরি বৈঠক। কিন্তু ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ১৬-১৭ জনের উপস্থিতিতে মুখ থুবড়ে পড়ল বৈঠক। শেষ পর্যন্ত তড়িঘড়ি তা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন এই পরিস্থিতি? বৈঠক বাতিল হওয়ার পর দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানান, বিধায়কদের গরহাজিরা কোনো বিদ্রোহ নয়, বরং প্রতিকূল পরিস্থিতির ফল। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর সোনারপুরে হামলা এবং রবিবার সকালে হুগলিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনার জেরে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। বিধায়করা তাঁদের নিজেদের এলাকায় দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে পুলিশের ধরপাকড় ও হেনস্থার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকের পক্ষেই সেই পরিস্থিতিতে এলাকা ছাড়া সম্ভব ছিল না, যা তাঁরা আগেই দলনেত্রীকে জানিয়েছিলেন।

পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ: কুণাল ঘোষের অভিযোগ, প্রতিবাদ করতে গিয়ে তৃণমূলের বহু কর্মী-সমর্থক পুলিশের প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার-সহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন দলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী? নেত্রীর অনুমোদনে কুণাল ঘোষ ঘোষণা করেছেন, এই হামলা ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস এবার রাজ্যজুড়ে বড়সড় আন্দোলনের পথে নামবে। বিধায়কদের উপস্থিতির হার যে প্রত্যাশিত ছিল না, তা স্পষ্ট। যদিও দলের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠছে—এই গরহাজিরা কি শুধুই পুলিশি ঝামেলার কারণে, নাকি দলীয় শৃঙ্খলার অভাব প্রকট হচ্ছে?

বর্তমানে তৃণমূলের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী নতুন কৌশল গ্রহণ করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy