তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানেই বিজেপিকে জেতানো? নকশালবাড়ির সভা থেকে বিস্ফোরক মল্লিকার্জুন খাড়গে!

লোকসভা নির্বাচনের আবহে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ! একদিকে যখন দিল্লিতে ইন্ডি-জোটের (I.N.D.I.A.) ঐক্য নিয়ে চর্চা চলছে, ঠিক তখনই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি-র মধ্যে ‘গোপন আঁতাঁত’-এর অভিযোগ তুললেন কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে কার্যত ‘মোদি-দিদি’ সেটিং তত্ত্বেই শান দিলেন তিনি।

“মোদি-দিদির গোপন বোঝাপড়া চলছে” শিলিগুড়ির নকশালবাড়িতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন খাড়গে। তিনি বলেন, “দিল্লিতে ইন্ডি ব্লকের শরিক হলেও বাংলায় কেন তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে? যারা সত্যিই বিজেপিকে রুখতে চায়, তারা কখনও কংগ্রেসের বিরোধিতা করে না। আসলে মোদি এবং দিদির মধ্যে গোপন বোঝাপড়া চলছে।” ভোটারদের সতর্ক করে তাঁর সাফ কথা— “তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানেই পরোক্ষে বিজেপির হাত শক্ত করা।”

“মোদি কি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে চান?” এদিন কোচবিহারের সভা থেকে খাড়গের নিশানায় ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খাড়গে বলেন, “কমিশনের মদতে কারচুপি করে ভোটে জিতছেন মোদি।” প্রধানমন্ত্রীর ঘনঘন বাংলা সফর নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রী কি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে চান? নইলে দেশের কাজ ছেড়ে বারবার কেন এখানে এসে প্রচার করছেন?”

খাড়গের বক্তৃতার মূল হাইলাইটস:

  • সংবিধান রক্ষা: আরএসএস এবং বিজেপি সংবিধান বদলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এটিই গণতন্ত্র রক্ষার শেষ লড়াই।

  • মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব: বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও মোদি সরকার যুবকদের হাতে লাঠি ধরিয়ে দিয়েছে।

  • ইলেকটোরাল বন্ড: নির্বাচনী বন্ডকে ‘পৃথিবীর বৃহত্তম দুর্নীতি’ বলে আখ্যা দিয়ে খাড়গে দাবি করেন, ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে বিজেপি টাকা তুলছে।

  • চা শ্রমিকদের বঞ্চনা: উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি এবং বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মহিলা সংরক্ষণ বিলে পালটা চাল মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিজেপির সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে খাড়গে মনে করিয়ে দেন যে, কংগ্রেস ২০১০ সালেই এই বিল আনার চেষ্টা করেছিল। তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালে সব দলের সমর্থনে বিলটি পাশ হলেও ডিলিমিটেশন ও সিএএ নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করা হচ্ছে।

ভোটের মুখে খাড়গের এই দ্বিমুখী আক্রমণ বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও জটিল করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ‘বোঝাপড়া’র এই অভিযোগ ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy