‘তিলোত্তমা’ থেকে ‘হীরক রানির দেশে’! আরজি কর-কাণ্ডের ছায়া সরতেই কি নামবদল? জল্পনা তুঙ্গে

আরজি কর-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ায় তৈরি হতে চলা ছবি ‘তিলোত্তমা’ ঘিরে শুরু থেকেই ছিল প্রবল কৌতূহল। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেল সব সমীকরণ। নাম বদলে নতুন ছবির ঘোষণা করা হল— ‘হীরক রানির দেশে’। সূত্রের খবর, নির্যাতিতার পরিবারের চূড়ান্ত সম্মতি না মেলায় এবং নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথের আপত্তির কারণেই ছবির পরিকল্পনা ও নামে এই বড় পরিবর্তন। নির্মাতা পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও, এই নামবদল নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে জল্পনার শেষ নেই।

রাজনৈতিক প্রতিবাদের নাম ‘তিলোত্তমা’ এখন ভোল বদলে পুরোপুরি ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার’-এর মোড়ক নিয়েছে। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবিটির মাধ্যমেই জয়া প্রদা দীর্ঘ বিরতির পর বাংলা সিনেমায় প্রত্যাবর্তন করছেন। ছবির নাম ঘোষণার পর থেকেই দর্শক মহলে একটাই প্রশ্ন— ‘হীরক রানি’ আসলে কে? রহস্যের উত্তর এখনই দিতে নারাজ অভিনেত্রী। জয়া প্রদা জানিয়েছেন, রহস্যের সমাধান এখনই দিলে ছবির মূল রসটাই নষ্ট হয়ে যাবে।

এই ছবিটি শুধু বাংলা নয়, ‘Waiting For You’ নামে হিন্দি ও প্যান-ইন্ডিয়া স্তরে মুক্তি পাবে। জয়া প্রদা জানান, এমন শক্তিশালী চিত্রনাট্যে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে সৌভাগ্যের। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি বরাবর গ্ল্যামারের চেয়ে অভিনয়ের গভীরতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘হীরক রানির দেশে’-ও দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ দীর্ঘ পনেরো বছর নানা পরিস্থিতির মধ্যে কাটিয়েছেন। তিনি মনে করেন, মানুষ এখন নিরাপদ ও স্বাধীন পরিবেশে বাঁচার অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের সরকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বাংলা ভাষা শেখার চ্যালেঞ্জ নিয়েও জয়া প্রদা ছিলেন অত্যন্ত ইতিবাচক। হিন্দি বা অন্য কোনো ভাষা তাঁর মাতৃভাষা না হওয়া সত্ত্বেও কাজের প্রয়োজনে তিনি যেমন তেলুগু, কন্নড় শিখেছেন, ঠিক তেমনই বাংলাও তিনি দ্রুত রপ্ত করে নেবেন। আজকের দিনে দক্ষিণী ছবির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে তিনি ‘শিকড়ের গল্প’কে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, দর্শক তখনই ছবির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে যখন তা নিজের মাটির কাছাকাছি হয়।

নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারে ‘পুষ্পা ২’-এর প্রযোজনা সংস্থার ছবি ‘ফৌজি’-র পাশাপাশি এই ছবিটিকেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। ‘তিলোত্তমা’ থেকে ‘হীরক রানির দেশে’— এই যাত্রাটি কেবল নাম পরিবর্তনের গল্প নয়; এর সঙ্গে মিশে আছে আবেগ, রাজনৈতিক ইঙ্গিত এবং এক সুপারস্টারের প্রত্যাবর্তনের হাতছানি। বিতর্ক সরিয়ে এই ছবি বক্স অফিসে কতটা ছাপ ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy