খেলার মাঠ থেকে ফের সামনে এল এক কলঙ্কিত অধ্যায়। উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে এক ১৪ বছরের নাবালিকা তিরন্দাজকে (Archery) ধর্ষণের অভিযোগ উঠল খোদ তার কোচের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন ভয় দেখিয়ে ছাত্রীর ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর পর, মুখ খুললে ‘প্রাণে মেরে ফেলার’ হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অবশেষে দীর্ঘ ৬ মাস পর বিভীষিকা কাটিয়ে বাবার কাছে মুখ খোলে ওই নাবালিকা।
ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকা হরিদ্বারের একটি নামী স্কুলের ছাত্রী। সেখানেই হরিয়ানা নিবাসী এক কোচ ছাত্রছাত্রীদের তিরন্দাজির প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন। অভিযোগ, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একদিন কোচিংয়ের সময় নাবালিকাকে একা পেয়ে তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায় ওই কোচ। ঘটনার পর কাউকে কিছু জানালে মেয়েটিকে এবং তার পরিবারকে খুনের হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে রাখে সে।
৬ মাস পর সত্য সামনে: বিগত কয়েক মাস ধরে এক ভয়াবহ মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিল মেয়েটি। অবশেষে সহ্যশক্তি হারিয়ে সম্প্রতি কাঁদতে কাঁদতে বাবার কাছে সবটা খুলে বলে সে। মেয়ের ওপর হওয়া এই অকথ্য নির্যাতনের কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান বাবা। এরপর দেরি না করে বৃহস্পতিবার হরিদ্বারের কাঙ্খল থানায় অভিযুক্ত কোচের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন তাঁরা।
পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত: অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। কাঙ্খল থানার আধিকারিক দেবেন্দ্র সিং রাওয়াত জানিয়েছেন:
মামলা রুজু: অভিযুক্ত কোচের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন ও ধর্ষণের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
শারীরিক পরীক্ষা: নির্যাতিতার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং তাঁর শারীরিক পরীক্ষা (Medical Test) সম্পন্ন হয়েছে।
তল্লাশি: অভিযুক্ত কোচ বর্তমানে পলাতক। পুলিশ তাঁর খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: যেহেতু ঘটনাটি একটি নামী স্কুলের সাথে জড়িত, তাই পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে। স্কুলের ভেতর কোচিং চলাকালীন এই ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং অন্য কোনও ছাত্রীর সঙ্গেও এমন অন্যায় হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত আর কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।





