২০২৬-এর মেগা লড়াইয়ের আগে বাংলার মাটি এখন রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ আর ব্যক্তিগত আক্রমণের আখড়া। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘এই দিদি’ সম্বোধন ঘিরে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠল। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, একজন তিনবারের নির্বাচিত মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে এমন ‘অসম্মানজনক’ সম্বোধন করে আদতে বাংলার নারী শক্তিকেই অপমান করেছেন শাহ।
তৃণমূলের অভিযোগ ও ক্ষোভ
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির দিকে। দলের মুখপাত্রদের দাবি:
মুখ্যমন্ত্রী কোনো একক দলের নেত্রী নন, তিনি গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁকে ‘এই দিদি’ বলে সম্বোধন করা তাঁর পদের অবমাননা।
ইতিপূর্বে মোদীজির ‘দিদি ও দিদি’ ডাক নিয়েও প্রবল বিতর্ক হয়েছিল, এবার শাহের এই মন্তব্য যেন সেই একই সংস্কৃতির প্রতিফলন।
গেরুয়া শিবির শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের।
বিজেপির পাল্টা যুক্তি
পাল্টা আসরে নেমেছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের দাবি, ‘দিদি’ ডাকটি বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সম্মানজনক একটি শব্দ। এর মধ্যে কোনো অসম্মান নেই। শাহ কেবল রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং অনুপ্রবেশের মতো গুরুতর বিষয় তুলে ধরেছেন, যা থেকে নজর ঘোরাতেই তৃণমূল এই ‘শব্দ-বিতর্ক’ তৈরি করছে।
নির্বাচনী বৈতরণী ও ‘নারী কার্ড’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে নারী ভোট যে অত্যন্ত নির্ণায়ক হতে চলেছে, তা দু’পক্ষই জানে।
তৃণমূলের কৌশল: শাহের এই মন্তব্যকে ‘নারী অপমান’ ও ‘বাংলার সংস্কৃতি বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরে মহিলা ভোটারদের আবেগ স্পর্শ করা।
বিজেপির কৌশল: ব্যক্তিগত আক্রমণের তকমা ঝেড়ে ফেলে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মতো ইস্যুগুলোকে সামনে আনা।





