ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে বড় মোড়! বাংলাদেশের নতুন ভারতীয় দূত দীনেশ ত্রিবেদী, মাস্টারস্ট্রোক মোদীর?

প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন মিটিয়ে ফের উষ্ণতা ফেরাতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হতে চলেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী

প্রথাগতভাবে এই পদে কোনো পেশাদার কূটনীতিককে (IFS) নিয়োগ করা হলেও, এবার মোদী সরকার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে বেছে নিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এর পেছনে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী কৌশল।

‘ইউনূস আমলের ক্ষত’ মেরামতের চেষ্টা

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়েছিল।

  • সম্পর্কের টানাপোড়েন: সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং ভারত-বিরোধী মনোভাবের কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস নয়াদিল্লি ও ঢাকার দূরত্ব বেড়েছিল।

  • আশার আলো: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার দল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

  • রাজনৈতিক ওজন: দীনেশ ত্রিবেদী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হওয়ার সুবাদে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO) এবং ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবেন, যা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

কেন দীনেশ ত্রিবেদীকেই বেছে নেওয়া হলো?

১. অভিজ্ঞতা: তিনি প্রাক্তন রেলমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের সাংসদ। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির নাড়ি-নক্ষত্র তাঁর চেনা, যা বাংলাদেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত মেলবন্ধনে সহায়ক হবে। ২. তারেক রহমান সরকারের সাথে সমন্বয়: ঢাকায় বর্তমান তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে ত্রিবেদীর মতো ‘পলিটিক্যাল হেভিওয়েট’ ব্যক্তিকে পাঠানোকে ভারতের ‘পজিটিভ’ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৩. গঙ্গা জলচুক্তি ও সীমান্ত ইস্যু: এই বছরের শেষেই গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তিস্তা ইস্যুও অমীমাংসিত। এই বড় সমস্যাগুলোর সমাধানে একজন পোড়খাওয়া রাজনীতিকের দর কষাকষির ক্ষমতা বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করছে সাউথ ব্লক।

প্রণয় ভার্মার উত্তরসূরি

দীনেশ ত্রিবেদী স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার। ভার্মাকে এবার বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভারতীয় দূত হিসেবে বদলি করা হচ্ছে। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরির ঢাকা সফরের পর থেকেই এই রদবদলের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে: বাংলাদেশের মাটিতে ভারত-বিরোধী মনোভাব প্রশমিত করা এবং পুনরায় বাণিজ্যিক ও পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোকে গতি প্রদান করাই হবে দীনেশ ত্রিবেদীর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য এই নিয়োগ ২০২৬-এর দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় আপডেট। ঢাকার রাজপথে এবার ভারতের ‘পলিটিক্যাল কার্ড’ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy