২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান-আমেরিকা সংঘাত এখন এক চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যরল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বর্তমানে ১০৬ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। এই সংকট মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে সামরিকভাবে পাশে চাইলেও, সরাসরি যুদ্ধ জড়াতে স্পষ্ট ‘না’ বলে দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি।
কিয়ার স্টারমার: ‘অফেন্সিভ নয়, ডিফেন্সিভ’
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিটে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটেন আমেরিকার কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।
-
মূল অবস্থান: স্টারমার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা, বড় যুদ্ধে জড়ানো নয়।” ব্রিটেন বর্তমানে কেবল সাইপ্রাসে নিজেদের ঘাঁটির নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ (Defensive) ভূমিকা পালন করছে।
-
ট্রাম্পের চাপ: ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার মার্কিন আরজিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিলেও, তা কেবল ‘নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রতিরক্ষামূলক’ কাজের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জার্মানি: ‘এটি ন্যাটোর যুদ্ধ নয়’
অন্যদিকে, জার্মানির নয়া চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ-এর সরকারও আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আবদারে সাড়া দেয়নি। জার্মান চ্যান্সেলরের মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়াস বার্লিনে সাংবাদিকদের জানান:
-
ন্যাটোর ভূমিকা: ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট। ইরান বর্তমানে কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ করেনি, তাই এই যুদ্ধে অংশ নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা জার্মানির নেই।
-
পরামর্শের অভাব: জার্মানির অভিযোগ, যুদ্ধ শুরু করার আগে বা হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করার আগে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে কোনো জরুরি আলোচনা করেনি।
বিপদে তেলের সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতি
ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে।
-
আইইএ-র সতর্কতা: ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি একে ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘সাপ্লাই শক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
-
ইউরোপের উদ্বেগ: স্টারমার ও মের্জ—উভয় নেতাই স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছাবে।
-
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ‘খারাপ ভবিষ্যৎ’
ন্যাটো মিত্রদের এমন শীতল প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করেছেন যে, মিত্ররা যদি এই বিশ্ব বাণিজ্য পথ রক্ষায় এগিয়ে না আসে, তবে তাদের জন্য ‘খুব খারাপ ভবিষ্যৎ’ অপেক্ষা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আটলান্টিকের দুই পারের সম্পর্কের দীর্ঘদিনের ফাটল আরও চওড়া হতে পারে।