পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য ঘিরে আজ লোকসভায় তীব্র উত্তেজনা দেখা যায়। বিরোধী দলনেতার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘মিথ্যুক’ বলার চ্যালেঞ্জের মুখে মোদী স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, “বিশ্বের কোনও নেতা ভারতকে অপারেশন রুখতে বলেননি।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই এনডিএ সাংসদরা টেবিল চাপড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের নিরাপত্তাবাহিনী পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ভারতের আকাশে একের পর এক ড্রোন পাঠায়, যা ভারতীয় বাহিনী গুলি করে ভূপাতিত করে। সীমান্তেও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের দিক থেকে হামলা শুরু হলে ভারত তার কড়া জবাব দেয়। এই পরিস্থিতিতে উভয় দেশের মধ্যে এক চরম যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এমনকি, জরুরি পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষা করার জন্য সাধারণ নাগরিকদের প্রশিক্ষণ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মক ড্রিলিংও শুরু হয়।
এই উত্তেজনার আবহে তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎই ঘোষণা করেন যে, ভারত ও পাকিস্তান তার মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে। উভয় দেশের তরফে সরকারিভাবে ঘোষণার আগেই ট্রাম্পের এই আগ বাড়িয়ে ঘোষণা ভালোভাবে নেয়নি ভারত। বিরোধী দলগুলি ট্রাম্পের দাবি প্রধানমন্ত্রী কেন নস্যাৎ করছেন না, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিল। যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এর আগে একাধিকবার জানানো হয়েছিল যে, উভয় দেশের ডিজিএমও (DGMO) পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে আসছিলেন।
আজ লোকসভায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ সংক্রান্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখতে উঠে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করে দেন যে, ৯ তারিখ রাতে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। মোদী তখন সেনার সঙ্গে মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় ফোন তুলতে পারেননি। পরে তিনি কল ব্যাক করলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তাকে ফোনে জানান যে পাকিস্তান খুব বড় হামলা করতে চলেছে। মোদী বলেন, “আমার যা জবাব ছিল, যাদের বোঝার ক্ষমতা নেই তাঁরা তো বুঝতে পারবেন না। আমার জবাব ছিল, যদি পাকিস্তানের যদি এই ইচ্ছা তাহলে ওদের তার মূল্য চোকাতে হবে। আমি ওঁকে বলি, যদি পাকিস্তান হামলা করে বড় হামলা করে জবাব দেব। এটা আমার জবাব ছিল। পরে আমি বলি, আমি গুলির জবাব গুলিতে দেব। এটা ৯ তারিখ রাতের কথা। আর আমরা ১০ তারিখ সকালে পাকিস্তানকে সৈন্যশক্তিকে তছনছ করে দিই।”
প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, “এখন পাকিস্তান ভালোভাবে জেনে গেছে, ভারতের জবাব আগের থেকেও আরও জোরালো হয়ে গেছে।” প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য একদিকে যেমন ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবিকে কার্যত অস্বীকার করল, তেমনই পাকিস্তানের প্রতি ভারতের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করল।





