ট্রাম্পের ‘অপারেশন ইরান’? হরমুজে আমেরিকার দাপট, ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার ঘিরে চূড়ান্ত সংঘাতের পথে মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ-বাতাস এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরানে আমেরিকার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কুয়েতের বুকে আছড়ে পড়ল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। কুয়েত সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে হামলার কথা স্বীকার করা হলেও, ঠিক কোন স্থানে এই আঘাত হানা হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে দেশটি। এই আকস্মিক হামলা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর সামরিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

গত সোমবার দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সেনাবাহিনী এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পেন্টাগনের দাবি, আত্মরক্ষার তাগিদে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন বিছানো নৌকাগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার মদতে ইরানের তেহরানে ইজরায়েলের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই অঞ্চলটিতে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করা হলেও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগাতার হুঙ্কার এবং ইরানের কঠোর অবস্থানের জেরে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

এই সংকীর্ণ কিন্তু কৌশলী জলপথটি বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। হরমুজ প্রণালীতে চলা এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হু-হু করে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বিপুল ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার দখল করার লক্ষ্যেই আমেরিকা এই আক্রমণাত্মক রণকৌশল নিয়েছে, অন্যদিকে ইরান তাদের ওপর আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড়।

বৃহস্পতিবার সকালে এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর আকাশসীমায় ইরানের চারটি ড্রোনকে তারা গুলি করে নামিয়েছে। আমেরিকার দাবি, এই ড্রোনগুলো তাদের নৌবহরের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরপর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বান্দার আব্বাস বিমানবন্দরে একটি কন্ট্রোল স্টেশনেও মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী ‘রেভোলিউশনারি গার্ড’-এর নিয়ন্ত্রিত সংবাদসংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বান্দার আব্বাস বিমানবন্দরটি সামরিক ও অসামরিক দুই কাজেই ব্যবহৃত হতো। এই বিমানবন্দরের ওপর হামলা যুদ্ধের পরিধিকে আরও প্রসারিত করল।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে তা বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। একদিকে আমেরিকার সামরিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এবং অন্যদিকে ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই—এই দুইয়ের চাপে পিষ্ট মধ্যপ্রাচ্য এখন এক তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে বিশ্ব সম্প্রদায়। ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy