টাকার বিনিময়ে জাল বিল্ডিং প্ল্যান পাস! পুলিশের জালে দাপুটে তৃণমূল নেত্রী, ৩ দিনের হেপাজত

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতেই উত্তরবঙ্গের দুর্নীতিগ্রস্ত হেভিওয়েটদের জালে পুরতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। দিনহাটা পুরসভার বহুচর্চিত এবং হাইপ্রোফাইল ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান পাস কেলেঙ্কারিতে অবশেষে প্রথম বড়সড় সাফল্য পেল দিনহাটা থানার পুলিশ। টাকার বিনিময়ে বেআইনিভাবে অবৈধ বহুতলের প্ল্যান অনুমোদন করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে পুরসভার কর্মী তথা দাপুটে তৃণমূল নেত্রী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে। এলাকায় তিনি উত্তরবঙ্গের প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই পরিচিত।

গ্রেফতারের পর ধৃত তৃণমূল নেত্রীকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ৩ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মেগা দুর্নীতির শিকড় কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা জানতেই পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তদন্তকারীরা।

বাড়ি ফেরার পথেই আটক, মাঝরাতে গ্রেফতার

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনহাটা পুরসভা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই টাকার বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনের ব্লু-প্রিন্ট বা বিল্ডিং প্ল্যান পাস করানোর একটি বড় চক্র সক্রিয় ছিল। এই চক্রের অন্যতম পান্ডা ছিলেন পুরসভার কর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্য। শনিবার বিকেলে পুরসভা থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় আচমকাই পুলিশ তার পথ আটকায়। এরপর তাকে দিনহাটা থানায় নিয়ে গিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় রাতেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বাড়িতে হানা, হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ

এই মেগা দুর্নীতির জাল শুধু মৌমিতাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই ভুয়ো প্ল্যান পাসের পেছনে বড় হাত রয়েছে দিনহাটা পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরীর। শনিবার মৌমিতাকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বাড়িতেও বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে একযোগে হানা দেয় প্রশাসন। তবে বেগতিক বুঝে আগেই গা ঢাকা দিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা। তার সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

শুরু তীব্র রাজনৈতিক তরজা

রাজ্যে সরকার বদলের পরপরই তৃণমূলের দাপুটে নেত্রীর এই গ্রেফতারি নিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে দিনহাটার বিজেপি বিধায়ক অজয় রায় বলেন, “আগে পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করত তৃণমূলের ক্ষমতাশালী নেতারা। তবে আমাদের সরকার আসার পর পুলিশকে মুক্ত হস্তে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তারই ফলস্বরূপ এই গ্রেফতারি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না।”

অন্যদিকে, এই বিষয়ে উদয়ন গুহর প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ধৃত নেত্রীকে নিজেদের হেফাজতে পেয়ে এই চক্রের মাধ্যমে কত কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এবং আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy