দেশে পর্নোগ্রাফি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) গ্রহণ করতে আপাতত অনীহা প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বি.আর. গাভাই-এর নেতৃত্বাধীন শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না বলে জানিয়েছেন এবং শুনানির জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন।
⚠️ নেপালের উদাহরণ ও ‘জেন জি’ বিদ্রোহের ভয়
আদালত এই বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো রায় দিতে নারাজ। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতার উদাহরণ তুলে ধরেন।
প্রধান বিচারপতি গাভাই বলেন:
“নেপালে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় কী ঘটেছিল, সেটা দেখুন।”
নেপালে তৎকালীন সরকার সোশ্যাল মিডিয়া সহ পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ করার পর ‘জেন জি’ (Gen Z) প্রজন্মের তরুণরা সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনে নেমেছিল। আদালত পরোক্ষভাবে এই বিদ্রোহের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
🚫 পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধে জাতীয় নীতির দাবি
মামলাকারীর দাবি, দেশে বাড়তে থাকা পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা নিরপরাধ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁর মূল দাবিগুলি ছিল:
জাতীয় নীতি: সরকার যেন পর্নোগ্রাফি বন্ধ করতে একটি জাতীয় নীতি তৈরি করে এবং কড়া ব্যবস্থা নেয়।
শিশু সুরক্ষা: বিশেষ করে ১৮ বছরের নীচে যাদের বয়স, তাদের জন্য এমন ভিডিও বা কনটেন্ট দেখা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা দরকার।
সহজলভ্যতা: তিনি দাবি করেন, এখন এক ক্লিকেই সবকিছু দেখা যায় এবং দেশে প্রায় ২০ কোটি পর্নোগ্রাফিক ভিডিও বা ক্লিপ সহজে পাওয়া যায়, যার মধ্যে শিশু নির্যাতনের ভিডিও (CSAM)-ও রয়েছে।
🛡️ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
আদালত এই বিষয়ে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ পুরোপুরি মানতে রাজি হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের জন্য এমন সফটওয়্যার রয়েছে যা শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে বা তাদের কার্যকলাপ ট্র্যাক করতে পারে।
মামলাকারী তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় সরকার চাইলে এই ধরনের ওয়েবসাইট বন্ধ করতে পারে বলে দাবি করেন। আদালতের আপাতত স্থগিতাদেশের ফলে মামলাটির পরবর্তী শুনানি চার সপ্তাহ পরে হবে।