আসামের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গ-এর রহস্যজনক মৃত্যুকে এবার সরাসরি ‘খুন’ বলে দাবি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। যদিও এই মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি, তবুও রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এমন মন্তব্যের পর রাজ্যজুড়ে বড় ধরনের শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাঁদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরা সবাই খুনে অভিযুক্ত। এটা খুন (Murder)। আমার কাছে এসব নতুন তথ্য নয়। আসাম পুলিশও তো খুনের অভিযোগ করেছে বা সেই মোতাবেকই তদন্ত হচ্ছে। যারা জেল হেফাজতে রয়েছে তারা খুনের অভিযোগেই রয়েছে। প্রথম দিন থেকেই এটা পরিষ্কার।”
⚖️ ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়ার লক্ষ্য
জুবিন গর্গ-এর মৃত্যুকে আসাম পুলিশ কেন খুন হিসেবে দেখছে, সেই কারণ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেননি। তবে তিনি প্রশাসনকে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আরও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “জুবিন গর্গের হত্যা মামলার চার্জশিট ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। আমি ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আমরা এখন প্রস্তুত।”
বিদেশ (সিঙ্গাপুর)-এ এই ঘটনা ঘটায় তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “গতকাল, আমি এই নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেছি।”
🇸🇬 সিঙ্গাপুর পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্টে অন্য ইঙ্গিত
অন্যদিকে, এর আগে সিঙ্গাপুর পুলিশ বাহিনী জানিয়েছিল, প্রাথমিক তদন্তে জুবিনের মৃত্যু খুন বলে মনে হয়নি। যদিও তাদের আরও সময় প্রয়োজন বলে তারা পৃথক তদন্তও করছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি ঘটনার মোড়কে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিল।
🔍 কাদের গ্রেফতার করা হয়েছে?
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মারা যান জুবিন গর্গ। ঘটনার তদন্তে নেমে আসাম পুলিশের সিআইডি এবং SIT রাজ্যজুড়ে ৬০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করে।
- গ্রেফতার: অনুষ্ঠানের সংগঠক শ্যামকানু মহন্ত, গায়কের ঘনিষ্ঠ সিদ্ধার্থ শর্মা এবং তাঁর দুই ব্যান্ড সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী ও অমৃত প্রভা মহন্ত।
- অন্যান্য গ্রেফতার: পরে, গর্গের খুড়তুতো ভাই আসাম পুলিশের ডিএসপি সন্দীপন গর্গ, পিএসও নন্দেশ্বর বোরা এবং প্রবীণ বৈশ্যও পুলিশের জালে ধরা পড়েন।
গ্রেফতার হওয়া এই সাতজনই বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে খুন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।