স্কুলের চার দেওয়ালের ভেতরেই যে এত বড় বিপদ ওৎ পেতে আছে, তা কল্পনাও করতে পারেননি এক হতভাগ্য মা। উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আর্মি পাবলিক স্কুলে ঘটে গেল এক নৃশংস ঘটনা। পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে সহপাঠীরা এতটাই মারধর ও নির্যাতন করেছে যে, চিরদিনের মতো একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাল সে। সোমবার লখনউ পুলিশ এই ভয়াবহ ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ স্কুল প্রাঙ্গণেই পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র এবং তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্র মিলে ওই পড়ুয়াকে ঘিরে ধরে। অকারণে তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে তারা। মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পর অভিযুক্ত দুই পড়ুয়া তাদের জুতো দিয়ে আক্রান্ত ছাত্রের চোখ ও মুখ সজোরে ঘষতে থাকে। জুতো দিয়ে চোখ পিষে দেওয়ার ফলে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটতে শুরু করে ওই ছাত্রের চোখ থেকে। বর্তমানে সে লখনউয়ের কমান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর আঘাতের ফলে ছেলেটি একটি চোখে আর কোনওদিন দেখতে পাবে না।
আক্রান্ত ছাত্রের মা ক্যান্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর ক্ষোভ, স্কুলের মধ্যে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ করেনি। এমনকি নিরাপত্তারক্ষীরাও সেই সময় কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। থানায় দুই অভিযুক্ত ছাত্রের পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও গাফিলতির মামলা রুজু করা হয়েছে। লখনউয়ের এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে স্কুলগুলিতে ‘বুলিং’ বা সহপাঠীদের দৌরাত্ম্য কতটা বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে।