বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাসে নজিরবিহীন হামলা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘সিন্ডিকেট’। মঙ্গলবার ভোররাতে দীর্ঘ সিন্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আলোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি এবং সিন্ডিকেটের দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং আন্দোলনের বিরোধিতায় মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
সিন্ডিকেটের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযোগের মাত্রা ও ধরনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক শাস্তির ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া নয়জন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে তাদের বর্তমান পদ থেকে পদাবনতি দেওয়ার পাশাপাশি বেতন অবনমনের শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। দুজন শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় সাতজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে দায়মুক্তি বা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে নতুন প্রশাসনিক ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরামের সক্রিয় ভূমিকা ও তদন্ত প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হয়ে উঠেছিল। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়িতদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। আজ ভোরে এই সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের পর ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। তবে শাস্তির মুখোমুখি হওয়া শিক্ষক ও কর্মকর্তারা পরবর্তী পদক্ষেপ কী গ্রহণ করেন, তা নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে। সব মিলিয়ে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ইতিহাসে মঙ্গলবার ভোররাতের এই সিন্ডিকেট সভা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।





