“জয় শ্রী রাম নয়, এবার ‘জয় মা দুর্গা’!”-দুর্গাপুজোয় মোদীর ‘বাংলা কানেকশন’, বিজেপি-র নতুন কৌশল!

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটমুখী বাংলাকে নজরে রেখে নয়া কৌশল নিল বিজেপি। মহাষ্টমীর সন্ধ্যায় দিল্লির বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা চিত্তরঞ্জন পার্কের (CR Park) দুর্গামণ্ডপে হঠাৎ হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কালীবাড়ি মন্দিরে তিনি অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি দিলেন। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— এই প্রথমবার সিআর পার্কের দুর্গাপূজোয় প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতি কি শুধু উৎসবের কারণে, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে বাঙালি ভোট ব্যাঙ্কের লক্ষ্য?

সিআর পার্কের দুর্গোৎসবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পর এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) মোদী নিজেই নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

মোদীর ‘সাংস্কৃতিক প্রাণবন্ততা’ বার্তা

এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “মহাষ্টমীর এমন শুভ দিনে দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কের দুর্গোৎসবে শামিল হয়েছিলাম। চিত্তরঞ্জন পার্কের বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যোগ রয়েছে। আমাদের সমাজের ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক প্রাণবন্ততার প্রতিফলন ঘটেছে এই উৎসবে। সকলের সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করেছি।”

লক্ষ্য ১৫০ জেলার বাঙালি ভোটার

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বহিরাগত’ প্রচারের মোকাবিলা করতে বিজেপি এবার নিজেদের ‘বাঙালিয়ানার’ সঙ্গে মেশানোর চেষ্টা করছে। ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান বাংলার মননে প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হওয়ায়, এখন গেরুয়া শিবির দুর্গা ও কালীর শরণাপন্ন।

বিজেপি-র অন্দরের খবর অনুযায়ী, শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বিহার সহ দেশের প্রায় ১৫০টিরও বেশি জেলায় বাঙালি হিন্দু ভোটাররা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারেন। দুর্গাপুজোয় প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ সেই বৃহত্তর বাঙালি ভোটারদের কাছে একটি বড় বার্তা পৌঁছনোর কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে।

সম্প্রতি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাঙালিয়ানার সঙ্গে দলকে যুক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি সেই কৌশলেরই এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।