আপনি কি দিল্লি থেকে ঋষিকেশ যাওয়ার দীর্ঘ যানজট নিয়ে চিন্তিত? তবে আপনার জন্য এক দুর্দান্ত সুখবর আসতে চলেছে। দিল্লির ‘সরাই কালে খাঁ’ থেকে মিরাটের ‘মোদিপুরম’ পর্যন্ত চলা হাই-স্পিড ‘নমো ভারত’ ট্রেনের রুট সোজা ঋষিকেশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। গত শনিবার কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের সঙ্গে বৈঠকে এই আর্জি জানান তিনি।
কী থাকছে ধামির মেগা প্ল্যানে? মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর ভারতের পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে:
রুট ম্যাপ: মিরাটের মোদিপুরম থেকে শুরু হয়ে ৫৮ নম্বর জাতীয় সড়কের সমান্তরালে দৌরালা, খতৌলি, পুরকাজি এবং রুরকি হয়ে ট্রেনটি পৌঁছাবে হরিদ্বারের জ্বালাপুরে। এর শেষ স্টপেজ হবে যোগনগরী ঋষিকেশ।
সময় বাঁচবে: বর্তমানে দিল্লি থেকে ঋষিকেশ যেতে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এই প্রকল্প সফল হলে তা কমে দাঁড়াবে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায়।
মেট্রো করিডোর: পাশাপাশি দেরাদুন-হরিদ্বার-ঋষিকেশ রুটে একটি আলাদা মেট্রো করিডোর তৈরির দাবিও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অর্থনৈতিক ও পর্যটন গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্রেন চালু হলে দিল্লি-এনসিআর-এর বাসিন্দাদের কাছে পাহাড় সফর অনেক সহজ হয়ে যাবে। এর ফলে:
হরিদ্বার ও ঋষিকেশে হলিডে হোমের চাহিদা প্রায় ২০০ শতাংশ বাড়তে পারে।
রুরকিতে ছাত্রাবাস ও আবাসন ব্যবসার ব্যাপক উন্নতি হবে।
মুজফফরনগর হয়ে উঠতে পারে বড় মাপের বাণিজ্য কেন্দ্র।
বাস্তবায়নের পথে চ্যালেঞ্জ স্বপ্নিল এই প্রকল্পের পথে কিছু বড় বাধাও রয়েছে। রুরকি থেকে ঋষিকেশের মাঝে রয়েছে রাজাজি ন্যাশনাল পার্ক-এর মতো পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। সেখানে রেললাইন বসানোর ছাড়পত্র পাওয়া এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় জমির আকাশছোঁয়া দাম প্রকল্পের খরচও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
আপাতত বল কেন্দ্রের কোর্টে। কেন্দ্র, উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং এনসিআরটিসি (NCRTC)—এই তিন পক্ষ একমত হলে তবেই দিল্লি-ঋষিকেশ হাই-স্পিড রেলের কাজ শুরু হবে।





