ব্যস্ত জীবনে এক কাপ গরম চা আমাদের ক্লান্তি দূর করে। কিন্তু চা পানের পর পাত্রে জমে থাকা ব্যবহৃত চা পাতাটির শেষ গন্তব্য হয় সাধারণত ডাস্টবিন। বড়জোর কেউ কেউ তা গাছের সার হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে আপনি কি জানেন, এই ‘ফেলে দেওয়া’ চা পাতাই আপনার প্রাত্যহিক জীবনের একাধিক সমস্যার সমাধান করতে পারে?
জুতো কিংবা ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করা থেকে শুরু করে চোখের ক্লান্তি মেটানো—ব্যবহার করা চা পাতার এমন ৫টি অসাধারণ গুণ নিচে আলোচনা করা হলো:
১) আঘাতের দ্রুত উপশম
চায়ের পাতায় থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। শরীরে কোনো স্থানে আঘাত লাগলে বা ক্ষত সৃষ্টি হলে, ব্যবহৃত চা পাতা ভালো করে ফুটিয়ে সেই জল ও পাতা ঠান্ডা করে জখম স্থানে লাগাতে পারেন। এতে ব্যথা ও প্রদাহ দ্রুত কমে।
২) চোখের ক্লান্তি দূর করতে
যারা সারাদিন কম্পিউটার বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের সামনে কাজ করেন, তাদের চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ব্যবহৃত চা পাতা ঠান্ডা করে একটি পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে মুড়ে নিন। চোখের ওপর এই ঠান্ডা ‘প্যাক’ কিছুক্ষণ দিয়ে রাখুন। ক্লান্তি নিমিষেই দূর হবে।
৩) ব্রণের চিরস্থায়ী সমাধান
ত্বকের যত্নেও চা পাতার জুড়ি মেলা ভার। ব্রণ বা ত্বকের ফুসকুড়ি নিয়ে নাজেহাল? ব্যবহৃত চা পাতা পরিষ্কার জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। সেই জল তুলায় ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এই পদ্ধতি মেনে চললে ব্রণের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
৪) কাঠের আসবাবের জেল্লা ফেরাতে
আপনার প্রিয় কাঠের আসবাবপত্র কি পুরনো দেখাচ্ছে? ব্যবহৃত চা পাতা পুনরায় ফুটিয়ে একটি কড়া লিকার তৈরি করুন। সেই লিকার দিয়ে নিয়মিত আসবাবপত্র মুছলে কাঠের স্থায়িত্ব বাড়ে এবং আসবাব নতুনের মতো চকচক করে।
৫) দুর্গন্ধ দূর করার অব্যর্থ দাওয়াই
জুতোর দুর্গন্ধ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় অনেককে। ব্যবহৃত চা পাতা (বিশেষ করে গ্রিন টি) ভালো করে শুকিয়ে একটি পাতলা কাপড়ে ভরে জুতোর ভেতর ২৪ ঘণ্টা রেখে দিন। সব দুর্গন্ধ উধাও হয়ে যাবে। একইভাবে, ফ্রিজের দুর্গন্ধ কাটাতেও একটি ছোট বাটিতে চা পাতা রেখে ফ্রিজের কোণে রেখে দিন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: গাছের সার হিসেবে ব্যবহারের সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন চা পাতায় চিনি না থাকে। চিনির উপস্থিতি গাছের উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে।