চাকরি নয়, লস্যি বিক্রি করেই বাজিমাত! পটাশপুরের যুবকের ইনকাম দেখে চোখ কপালে উঠবে আপনারও

রোদ যত বাড়ছে, ততই চড়চড় করে বাড়ছে ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা। আর এই প্রচণ্ড গরমকেই আয়ের হাতিয়ার করে নিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের যুবক শ্যামসুন্দর পাত্র। মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা এক সাধারণ ব্যবসাই এখন তাঁকে মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা আয়ের দিশা দেখাচ্ছে।

কীভাবে শুরু হলো এই লড়াই? আজকাল চাকরির বাজারের যে হাল, তাতে অনেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। শ্যামসুন্দরও তার ব্যতিক্রম নন। তবে বড় কোনো শোরুম বা দামী দোকান নয়, তিনি বেছে নিয়েছেন অত্যন্ত কম পুঁজির ‘লস্যি ব্যবসা’। নিজের বাড়ির সামনেই একটি ছোট স্টল দিয়ে শুরু করেছেন এই কাজ, ফলে দোকান ভাড়ার কোনো বাড়তি চাপ নেই।

বিনিয়োগ কত? শ্যামসুন্দরের হিসেব অনুযায়ী, মাত্র ১০ হাজার টাকাতেই পুরো সেটআপ তৈরি সম্ভব:

  • মিক্সার মেশিন: ৩,৫০০ টাকা।

  • টেবিল বা ছোট স্টল: ২,৫০০ টাকা।

  • গ্লাস ও সরঞ্জাম: ১,০০০ টাকা।

  • কাঁচামাল (দই, চিনি, বরফ, ফ্লেভার): ৩,০০০ টাকা।

লাভের অংকটা আকাশছোঁয়া: ব্যবসায়িক গণিত বলছে, এক গ্লাস সুস্বাদু লস্যি তৈরি করতে খরচ পড়ে মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা। আর বাজারে সেই লস্যি অনায়াসেই বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি গ্লাসেই পকেটে ঢুকছে প্রায় ১৫ টাকা নিট মুনাফা।

প্রতিদিন কত আয়? ভয়াবহ গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ভিড় উপচে পড়ছে শ্যামসুন্দরের দোকানে। প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ গ্লাস লস্যি বিক্রি হচ্ছে। দিনের শেষে ক্যাশ বাক্সে জমছে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে দিনে গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা অনায়াসেই লাভ থাকছে। মাসে যা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪৫,০০০ টাকায়

উপসংহার: যাঁরা অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসার খোঁজ করছেন, তাঁদের জন্য শ্যামসুন্দরের এই ‘লস্যি মডেল’ হতে পারে সেরা অনুপ্রেরণা। কোনো বড় ডিগ্রি বা লক্ষ লক্ষ টাকার প্রয়োজন নেই, সঠিক সময়ে সঠিক চাহিদাকে কাজে লাগাতে পারলেই কেল্লাফতে!

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy