ভারতের ‘পাহাড়পুরুষ’ দশরথ মাঝি-র গ্রামে এখন কেবল ত্যাগের গল্প নয়, যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক ছলনার এক নতুন আখ্যান। বিহার নির্বাচনের (Bihar Election) আগে গয়া জেলার গেহলোয়ার গ্রামে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী-র সফরের পর তাঁর ছেলে ভগীরথ মাঝি-র একটি বিস্ফোরক মন্তব্যে অস্বস্তিতে কংগ্রেস।
🤝 ডাল-ভাত থেকে টিকিট বিতর্কের সূত্রপাত
গত জুলাই মাসে রাহুল গান্ধী তাঁর ‘সংবিধান রক্ষা’ সম্মেলনের অংশ হিসেবে দশরথ মাঝির গ্রাম গেহলোয়ারে আসেন। সেখানে তিনি দশরথ মাঝির তৈরি বিখ্যাত রাস্তা দেখেন এবং ভগীরথের কাঁচা মাটির ঘরে (ইন্দিরা আবাস যোজনার অসম্পূর্ণ স্থাপনা) খাটে বসে ডাল-ভাত ও নারকেলের জল খান।
কংগ্রেসের প্রচার: সেই সময় কংগ্রেস নেতারা এই সাদামাটা দৃশ্যকে প্রচার করে রাহুল গান্ধীকে ‘দরিদ্রের নেতা’ হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি চুপচাপ সাহায্য করেন।
ঘরের নির্মাণ: এর কিছুদিন পরেই গ্রামে কারিগররা এসে ভগীরথের কাঁচা ঘরটিকে পাকা করে দেন। ভগীরথ তখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “রাহুলজি কখনো প্রতিশ্রুতি দেননি, তবু ঘর বানিয়ে দিলেন।”
💔 ‘বিশ্বাস ভেঙে গেছে’, অভিযোগ ভগীরথের
কিন্তু অক্টোবরে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট বিতরণ শুরু হতেই ঘটনার আসল মোড় আসে। ভগীরথ মাঝি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন এবং বারাচট্টি আসন থেকে লড়তে চেয়েছিলেন।
ভগীরথ মাঝির দাবি, রাহুল গান্ধী গ্রামে এসে খাটে বসে তাঁকে বিধায়ক পদে টিকিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এক সাক্ষাৎকারে ভগীরথ বলেন:
“রাহুলজি বলেছিলেন, টিকিট দেব। আমরা বিশ্বাস করেছিলাম কারণ তিনি ঘরে এসেছিলেন।”
তিনি চারদিন ধরে দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই আসন থেকে টিকিট দেওয়া হয় অন্য প্রার্থী তনুশ্রী মাঝি-কে।
এই ঘটনায় ভগীরথ মাঝি-র ক্ষোভ ফেটে পড়ে। তিনি সরাসরি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক ছলনা’-র অভিযোগ এনে বলেন:
“আমার রাহুল গান্ধীর প্রতি বিশ্বাস ভেঙে গেছে। এটা রাজনৈতিক ছলনা। ঘর বানিয়ে ভোট চাওয়া, তারপর ভুলে যাওয়া।”
বিহার নির্বাচনের ঠিক মুখে দশরথ মাঝির ছেলের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য কংগ্রেসের জন্য এক লজ্জার মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে কংগ্রেস এখনও কোনো সরকারি বক্তব্য দেয়নি।