“গেলেই বলে ‘ওষুধ নেই’, কিন্তু নষ্ট হচ্ছে গাদা গাদা!” চলে শুধু আড্ডা, গ্রামবাসীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

একদিকে প্রয়োজনের সময় ওষুধ মিলছে না, অন্যদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে গাদা গাদা মূল্যবান ঔষধ! এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার হুগলির তারকেশ্বরের নাইটা মালপাহাড় গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

গ্রামবাসীদের অভিযোগের পাহাড়:

বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের মূল অভিযোগ, তারা যখনই চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসছেন, তখনই তাদের ‘ওষুধ নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ, স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ওষুধ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হচ্ছে। এটি স্পষ্টতই প্রশাসনের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার দিকে ইঙ্গিত করছে।

শুধু তাই নয়, গ্রামবাসীরা স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও এনেছেন। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যকর্মীরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছেন না এবং রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন। ওষুধ না দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা, যা অত্যন্ত গুরুতর।

বিক্ষোভ ও পুলিশের হস্তক্ষেপ:

এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে এদিন সকালে নাইটা মালপাহাড় গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে বহু গ্রামবাসী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাদের ক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল যে, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। তারকেশ্বর থানার পুলিশ কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:

এই ঘটনা তারকেশ্বর সহ রাজ্যের গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যেখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে, সেখানে এমন অব্যবস্থা কিভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনে ওষুধ না পাওয়া এবং ওষুধ নষ্ট হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

গ্রামবাসীরা আশা করছেন, এই ঘটনার পর প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং নাইটা মালপাহাড় গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা উন্নত হবে, যাতে ভবিষ্যতে তাদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy