নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল আসানসোল শিল্পাঞ্চল। মঙ্গলবার গভীর রাতে আসানসোল কোর্ট মোড় এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আগুনের লেলিহান শিখা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, পাশের একটি কেকের দোকানও ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই ঘটনা কি নিছক দুর্ঘটনা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুরের তাণ্ডব:
অশান্তি শুধু আসানসোল শহরেই সীমাবদ্ধ নেই। রূপনারায়ণপুর টোল প্লাজা, কুমারপুর, কুলটি, রানিগঞ্জ, জামুরিয়া, বারাবনি এবং বার্নপুরে একাধিক তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙা হয়েছে, আবার কোথাও নীল-সাদা রঙ মুছে রাতারাতি গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের আস্তানা। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের ওপর চড়াও হচ্ছে একদল উন্মত্ত জনতা। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, প্রাণভয়ে অনেক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক বাড়ি থেকে বেরোতে সাহস পাচ্ছেন না। তাঁদের দাবি, পুলিশ কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলেও অনেককেই আবার ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে আতঙ্কের পরিবেশ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
বিজেপির পাল্টা দাবি:
তবে এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পদ্ম শিবির। আসানসোল উত্তরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্য নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর পাল্টা দাবি, “বিজেপির কোনও কর্মী এই হিংসার সঙ্গে যুক্ত নয়। কিছু দুষ্কৃতী বিজেপির নাম ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।” তিনি অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ভরসা ইন, ভয় আউট’ স্লোগানকে হাতিয়ার করে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, তারা শান্তিতে বিশ্বাসী।
ধূপগুড়িতে গেরুয়া উল্লাস:
এদিকে উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়িতেও ছবিটা প্রায় একই রকম। ধূপগুড়ি বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী নরেশ চন্দ্র রায়ের বিপুল জয়ের পর ঝার আলতা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে রীতিমতো উৎসবের মেজাজ। প্রশাসনিকভাবে পঞ্চায়েতটি এখনও তৃণমূলের দখলে থাকলেও, বিজেপি কর্মীরা অফিসের নীল-সাদা রঙ ঢেকে গেরুয়া আবির মেখে দেন এবং দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেন। গোটা জলপাইগুড়ি জেলায় বিজেপির জয়জয়কারের পর গেরুয়া শিবিরের এই সক্রিয়তা শাসকদলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
রাজ্যজুড়ে এই পোস্ট-পোল ভায়োলেন্স বা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা কবে থামবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ। একদিকে জয়ী পক্ষের বিজয়োল্লাস, অন্যদিকে পরাজিত শিবিরের অভিযোগ— সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক আকাশ এখন মেঘাচ্ছন্ন।





