পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। বাংলার জনাদেশকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয় এবং ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই শীর্ষ আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে চলেছে ঘাসফুল শিবির।
তৃণমূল সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে একাধিক কেন্দ্রে ইভিএমের কার্যকারিতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাদের গভীর সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে যে সমস্ত আসনে জয়ের ব্যবধান অত্যন্ত কম, সেই কেন্দ্রগুলির ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হচ্ছে। দলীয় নেতৃত্বের দাবি, “বাংলার মানুষ আমাদের সঙ্গেই ছিল, কিন্তু অশুভ শক্তির প্রভাব এবং যান্ত্রিক কারসাজিতে এই ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে।”
তৃণমূলের আইনি লড়াইয়ের মূল ৩টি দিক:
ইভিএম কারচুপি: বেশ কিছু স্পর্শকাতর বুথে ইভিএমের রেকর্ড এবং ভিভিপ্যাট সলিপ নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা: ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা এবং ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগকে সামনে রাখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা: তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশন অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।
এই আইনি পদক্ষেপের ফলে বাংলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন বিজেপি নবান্ন দখলের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে এবং ব্রিগেডে শপথ গ্রহণের মহোৎসবের আয়োজন করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তৃণমূলের এই আইনি চাল বিজেপির জয়ের আনন্দে কিছুটা হলেও ভাটা ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিজেপি অবশ্য এই ঘটনাকে ‘হেরে যাওয়ার অজুহাত’ বলে কটাক্ষ করেছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল এবং তাঁরা গণতান্ত্রিকভাবেই জনাদেশ দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট কি তৃণমূলের এই পিটিশন গ্রহণ করবে? নাকি বাংলার নতুন সরকারের পথচলায় আইনি জট কেটে যাবে? এখন সেই উত্তরের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।
বাংলার এই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির প্রতি মুহূর্তের আপডেট পেতে নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।





