খাস কলকাতায় স্ত্রীকে খুন করে উধাও অধ্যাপক স্বামী! কাজের মহিলা ফ্ল্যাটে ঢুকতেই সামনে এল ভয়ঙ্কর দৃশ্য

ছুটির দিনের সকালে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল নরেন্দ্রপুর থানা এলাকা। গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন একটি অভিজাত আবাসনে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠল খোদ অধ্যাপক স্বামীর বিরুদ্ধে। রবিবার সকালে আবাসনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে এনাক্ষী দাস (৩৬) নামের ওই মহিলার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সৌমিক দাস পলাতক। সবথেকে মর্মান্তিক বিষয় হলো, যখন এই নৃশংস ঘটনা ঘটে, তখন পাশের ঘরেই অঘোরে ঘুমোচ্ছিল দম্পতির ৮ বছরের অসুস্থ সন্তান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌমিক দাস পেশায় একজন অধ্যাপক। প্রায় চার বছর আগে সপরিবারে গড়িয়া স্টেশনের কাছের এই আবাসনে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। প্রতিবেশীদের দাবি, পরিবারটি অত্যন্ত অন্তর্মুখী ছিল এবং কারও সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করত না। রবিবার সকালে ওই ফ্ল্যাটের পরিচারিকা রিঙ্কু অধিকারী কাজে এলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তিনি জানান, শনিবার রাত থেকেই এনাক্ষী দেবীকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে এসে দীর্ঘক্ষণ কলিং বেল বাজিয়েও সাড়া না পাওয়ায় সন্দেহ হয়। শেষে প্রতিবেশীর কাছে থাকা ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলতেই দেখা যায়, প্রধান দরজা ভিতর থেকে লক করা ছিল না।

ভিতরে ঢুকে শিউরে ওঠেন পরিচারিকা। তিনি দেখেন, এক ঘরে তাঁদের ছোট ছেলে ঘুমোচ্ছে, আর অন্য ঘরে মশারি টাঙানো বিছানায় নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এনাক্ষী। ফ্ল্যাটে অধ্যাপক সৌমিক দাসের কোনো চিহ্ন ছিল না। খবর পেয়ে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরে স্ত্রীকে খুন করে চম্পট দিয়েছেন সৌমিক। তবে ৮ বছরের শিশুটি ঘরে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই কাণ্ড ঘটল এবং কেনই বা দরজা খোলা রেখে সৌমিক পালালেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত অধ্যাপকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy