টলিউডের সোনালী যুগের দাপুটে নায়িকা থেকে বর্তমানের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—শতাব্দী রায় সবসময়ই পাদপ্রদীপের আলোয়। রাজনীতির ময়দানে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম মুখ হিসেবে বর্তমানে ঝড় তুলছেন তিনি। এনসিপিআই (NCPI)-এর সঙ্গে একীভূত হওয়া থেকে শুরু করে এনডিএ-র সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তবে রাজনীতির এই উত্তপ্ত সমীকরণের আড়ালে রয়েছে এক শান্ত ও ছিমছাম ব্যক্তিগত জীবন, যা অনেকের কাছেই অজানা।
বিজ্ঞাপন থেকে বিয়ের পিঁড়ি: শতাব্দী রায়ের ব্যক্তিগত জীবনের গল্প কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। আজ থেকে ২৬ বছর আগে, ২০০০ সালের ১ মে সাত পাকে বাঁধা পড়েন তিনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাংলা সিনেমার এই সুপারস্টারের জীবনসঙ্গী নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত অনন্য। পরিবার খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে তাঁর জন্য পাত্র খুঁজেছিল। সেই বিজ্ঞাপনের সূত্রেই পরিচয় হয় আমেরিকা নিবাসী ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট মৃগাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সেখান থেকেই ভালোবাসা এবং পরিণয়।
বিয়ের সাক্ষী খোদ মুখ্যমন্ত্রীরা: তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দীর বিয়ে মানেই ছিল সেলিব্রেটি ইভেন্ট। বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এবং পরবর্তীতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো ব্যক্তিত্বরা। রাজনীতির জগতের এই দুই হেভিওয়েট নেতার উপস্থিতি সেই সময় ব্যাপক শোরগোল ফেলেছিল।
ব্যস্ত রাজনীতির আড়ালে সুখের সংসার: অভিনয়, পরিচালনা, লেখালেখি এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ ২০ বছরের সংসদীয় জীবনের ব্যস্ততা—সবেতেই সমান দাপটে কাজ করে গিয়েছেন শতাব্দী। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এবং মৃগাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায় গড়ে তুলেছেন এক সুন্দর সংসার। শতাব্দীর ব্যস্ততা সামলে দুই সন্তানকে মানুষ করার ক্ষেত্রে মৃগাঙ্কবাবুর অবদান অপরিসীম। শতাব্দী নিজেই বহুবার স্বীকার করেছেন, তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরের সঙ্গী হিসেবে মৃগাঙ্কই তাঁর শক্তির উৎস।
রাজনীতির মাঠে যতই ঝড় উঠুক, ব্যক্তি জীবনে শতাব্দী রায় বরাবরই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। যে নায়িকাকে নিয়ে কোনোদিন কোনো গসিপ তৈরি হয়নি, সেই শতাব্দী আজ এক নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামতে চলেছেন। রাজনীতির মঞ্চে ‘বিদ্রোহী’ শতাব্দী কি এবার নিজের ব্যক্তিগত জীবনের মতো এই লড়াইয়েও নতুন কোনো মাইলফলক স্পর্শ করতে পারবেন? তা সময়ই বলবে।





