মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবার আরও ভয়াবহ রূপ নিল। পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই সুর চড়ালেন মোজতবা খামেনি। রবিবার (১৫ মার্চ, ২০২৬) রাতে তাঁর টেলিগ্রাম পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শত্রু পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পাই-পাই হিসাব বুঝে নেওয়া হবে।
মোজতবার কড়া বার্তা: ‘ক্ষতিপূরণ নয়তো ধ্বংস’
নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন:
-
বিকল্প ১: শত্রু পক্ষকে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
-
বিকল্প ২: যদি তারা তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে ইরান নিজস্ব ক্ষমতায় তাদের সমপরিমাণ সম্পদ দখল করবে।
-
বিকল্প ৩: সম্পদ দখল সম্ভব না হলে, শত্রু পক্ষের সেই পরিমাণ সম্পদ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
কেন এই চরম উত্তেজনা? প্রেক্ষাপট ২০২৬
গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাক্রম মধ্যপ্রাচ্যকে এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে:
-
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চালায়। এই হামলায় তেহরানে ইরানের দীর্ঘকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন।
-
মৃতের সংখ্যা: দাবি করা হচ্ছে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন (যদিও বেসরকারি মতে এই সংখ্যা আরও বেশি)।
-
৮ মার্চ, ২০২৬: ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ মোজতবা খামেনিকে (৫৬) নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও হরমুজ প্রণালি
পিতার মৃত্যুর পর থেকেই মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান ব্যাপক আক্রমণ শুরু করেছে।
-
ইসরায়েল, জর্ডান ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান।
-
সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। মার্চের শুরু থেকে ইরান এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।