পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলে ফের এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনা। এবার স্কুলের ক্লাসরুমের ভেতরেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক শিক্ষক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যা কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষক বিএলও (BLO) বা বুথ লেভেল অফিসারের দায়িত্বেও ছিলেন।
ভয়াবহ সেই মুহূর্ত: ঘটনাটি জানাজানি হয় যখন এক অভিভাবক বিশেষ প্রয়োজনে স্কুলের একটি ক্লাসরুমের দরজা খোলেন। দরজা খুলতেই তিনি দেখেন, ঘরের কড়িবর্গার সঙ্গে গলার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন ওই শিক্ষক। তাঁর চিৎকার শুনে অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত? প্রাথমিক তদন্তে ও স্থানীয় সহকর্মীদের একাংশের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে বিএলও-র কাজের চাপে প্রচণ্ড মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই শিক্ষক। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের পাহাড়প্রমাণ চাপ তাঁর ওপর ছিল। পরিবারের অভিযোগ, এই অতিরিক্ত কাজের বোঝার কারণেই তিনি এমন চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এলাকায় তীব্র উত্তেজনা: ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। তাঁদের প্রশ্ন, কেন একজন শিক্ষককে স্কুলের পঠনপাঠন ছেড়ে প্রশাসনিক কাজের চাপে পিষ্ট হতে হবে? এই ঘটনার পর শিক্ষা দপ্তরের ভূমিকা এবং বিএলও-র কাজের চাপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্য়েই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং শিক্ষকের ঘর থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।