তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তরে সীমাহীন অবহেলা ও বঞ্চনার অভিযোগ তুলে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে চিঠি লিখলেন বিশ্বখ্যাত বাঙালি পর্বতারোহী পিয়ালী বসাক। এভারেস্টসহ পৃথিবীর ছয়টি উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ জয় করা এই অ্যাথলিট চিঠিতে তুলে ধরেছেন বিগত সরকারের আমলে পর্বতারোহীদের সঙ্গে হওয়া চরম উদাসীনতার চিত্র। একইসঙ্গে, নতুন মন্ত্রীর কাছে রাজ্যের পর্বতারোহীদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
পিয়ালী বসাক Asianetnews Bangla-কে জানান, ব্যক্তিগত সাফল্য ও রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও তাকে রাজ্য সরকারের পর্বতারোহণ কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী এভারেস্ট বা ২৬ হাজার ফুটের ওপরের শৃঙ্গ জয়ীরা কমিটিতে স্থান পাওয়ার যোগ্য হলেও, তাকে দীর্ঘসময় ব্রাত্য রাখা হয়েছে। তার অভিযোগ, “বিগত সরকারের সময়পর্বে মেধাবী পর্বতারোহীদের তাদের প্রাপ্য সম্মান ও আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”
চিঠিতে পিয়ালী ২০১৮ সালের শ্রী কৈলাশ অভিযানের এক মর্মান্তিক পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন। রাজ্য সরকারের কমিটির নির্বাচন করা ১০ জন তরুণ সেই অভিযানে গিয়ে সরকারিভাবে সরবরাহ করা নিম্নমানের সরঞ্জাম ও তাঁবুর কারণে ভয়াবহ বিপদে পড়েছিলেন। ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় ফ্রস্ট বাইটে ওই তরুণদের হাত ও পায়ের আঙুল পর্যন্ত কাটা পড়েছিল। পিয়ালীর বিস্ফোরক দাবি, ওই ঘটনায় আহতদের জন্য করা ইনস্যুরেন্সের টাকা বা চিকিৎসার খরচ—কোনোটাই রাজ্য সরকার দেয়নি। রহস্যজনকভাবে অভিযানের নথিপত্র রাখা যুবকল্যাণ দপ্তরের ঘরে সেই সময় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে পিয়ালী জানান, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বারবার তাকে শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস দিয়ে ফিরিয়েছেন। ২০১৮ সালে মানাসলু অভিযানের আগে সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনে কাগজপত্র জমা দিলেও, ফিরে আসার পর কোনো আর্থিক সহায়তা বা স্বীকৃতি মেলেনি। এমনকি ২০১৯ সালে এভারেস্ট জয়ের পরেও একই বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে তাকে।
পর্বতারোহীদের সুরক্ষা ও প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি। পিয়ালীর কথায়, “রাজ্য ও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনার পরও এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।” নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে তার এই আবেদন রাজ্য ক্রীড়াক্ষেত্রে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করল। পর্বতারোহীদের নিরাপত্তা ও দপ্তরের স্বচ্ছতা নিয়ে এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর এখন ক্রীড়া মহল ও সাধারণ মানুষের নজর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে।





