সকাল থেকে হাওড়ার আকাশটা যেন মেঘলা। না, প্রকৃতির নয়, মনুষ্যত্বের মেঘ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও আজ গোটা রাজ্যকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক যুবককে কোমর ও পায়ে দড়ি বেঁধে অমানবিকভাবে ওঠ-বস করানো হচ্ছে। হতভাগ্য এই যুবকের নাম শ্রীধর চক্রবর্তী, পেশায় একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। আজতক বাংলা যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি, তবে এর তীব্রতা এতটাই যে, ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।
অমানবিক এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিন্দার ঝড় বইছে। বিজেপি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, প্রশ্ন তুলেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। হাওড়া গ্রামীণ বিজেপি সভাপতি দেবাশিস সামন্তের মন্তব্য, “এই ধরনের অমানবিক ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটছে। আমাদের মণ্ডল সভাপতিকে বলপ্রয়োগ করে বলা হয়েছে, ‘বল তোকে বলেছে এই কথা বলতে।'” তিনি আরও দাবি করেছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার এবং পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। সামন্তের হুঁশিয়ারি, “২০২৬-এ সরকার বদল হতে পারে। পুলিশ কি তখনও তৃণমূলের হয়ে কাজ করবে, না কি নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে? পুলিশকে এখন থেকেই সেই দায়িত্ব বুঝতে হবে।”
অন্যদিকে, হাওড়া জেলা গ্রামীণ তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অরণ্য সেন ওরফে রাজা সেন ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, “এই ঘটনার সত্যতা কতটা, তা আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলব। তারপরই মন্তব্য করা যাবে।” দলের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমার কাছে এখনও বিস্তারিত তথ্য নেই। লোকাল লিডারের থেকে পুরো বিষয়টি জেনে তারপর তদন্ত করা হবে।”
ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ। পুলিশ সুপার সুবির্মল পাল জানিয়েছেন, “ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর আমরা নিজেরাই একটি অভিযোগ দায়ের করি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে তোলা হবে।” তিনি আরও জানান, যে সিভিক ভলান্টিয়ারকে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক সিভিক ভলান্টিয়ারের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ, তাও জনসমক্ষে, কীভাবে সম্ভব হলো— এই প্রশ্ন এখন হাওড়ার বাতাসকে ভারী করে তুলেছে। এই ঘটনার জেরে জেলায় নতুন করে রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকেই। পুলিশের তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, এবং কারা এই ঘটনার জন্য দায়ী বলে প্রমাণিত হন, এখন সেটাই দেখার। তবে এই ঘটনা কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনো রহস্য, তা সময়ই বলবে।