চাকরি, রেশন কিংবা আবাসের পর এবার দুর্নীতির তালিকায় যুক্ত হলো সরকারি স্কুলের পোশাক। বিগত তৃণমূল জমানার কেলেঙ্কারির ধারা অব্যাহত রেখে স্কুল ইউনিফর্মের কাপড়ের গুণমান নিয়ে যে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে, তাতে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে সচিব পর্যায়ের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে আয়োজিত হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি এই বস্ত্র-কেলেঙ্কারি নিয়ে সরাসরি তোপ দাগেন।
সচিবদের মেগা ক্লাসে তীব্র ভর্ৎসনা
সোমবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্কুল ইউনিফর্মের নিম্নমানের কাপড় ব্যবহারের ফাইল টেবিল করে বস্ত্র ও অর্থ দফতরকে কার্যত কোণঠাসা করে ফেলেন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বছরের পর বছর গুণগত মান যাচাই না করেই কীভাবে কোটি কোটি টাকার বরাত নির্দিষ্ট কিছু সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হলো, তা নিয়ে তিনি তীব্র ভর্ৎসনা করেন। প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে এই সরকারি টাকা তছরুপের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তিনি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, এতদিন কেন কোনো অডিট বা কোয়ালিটি কন্ট্রোল করা হয়নি?
সাইজের গোলমাল থেকে ছেঁড়া কাপড়: কড়া দাওয়াই
বিগত জমানায় পড়ুয়াদের পোশাকের সাইজের অমিল বা নিম্নমানের কাপড়ের কারণে পোশাক ছিঁড়ে যাওয়ার মতো চরম সমস্যার অভিযোগ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইউনিফর্মের গুণগত মান ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করার পরই অর্থ দফতর ছাড়পত্র দেবে। এই ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়ন ও বকেয়া নিয়ে ব্লু-প্রিন্ট
স্কুল ইউনিফর্মের পাশাপাশি এদিনের বৈঠকে কেন্দ্রের বকেয়া টাকা আদায়ের বিষয়েও তৎপরতা দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১০০ দিনের কাজ শুরু করার ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে, দক্ষিণবঙ্গের স্বপ্নের প্রকল্প ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়নে সেচ দফতরকে দিল্লির কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রেখে দ্রুত কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরিবর্তনের হাওয়ায় রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এটিই যে শুভেন্দুর বড় পদক্ষেপ, তা স্পষ্ট।





