টলিউড অভিনেত্রী তথা এক সময়ের বিজেপি ঘনিষ্ঠ রূপাঞ্জনা মিত্রের (Rupanjana Mitra) একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও বিনোদন জগতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিনেত্রীর অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে লাগাতার যৌন হেনস্থার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে। আর এই সবের নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি আইটি সেল ও গেরুয়া শিবিরের উগ্র সমর্থকরা— এমনটাই দাবি তাঁর।
ঠিক কী ঘটেছে?
রূপাঞ্জনার অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে তাঁর বিভিন্ন পোস্টের কমেন্ট বক্সে এবং ইনবক্সে কুৎসিত মন্তব্য উড়ে আসছে। তিনি জানান:
ধর্ষণের হুমকি: অভিনেত্রীর দাবি, তাঁকে যৌন হেনস্থা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
রুচিহীন আক্রমণ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অত্যন্ত নিম্নরুচির ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাইবার বুলিং: রূপাঞ্জনার মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মানসিক হেনস্থা করার একটি ছক।
বিজেপির দিকে কেন আঙুল?
এক সময় সক্রিয়ভাবে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রূপাঞ্জনা। কিন্তু পরবর্তীকালে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। অভিনেত্রীর দাবি, যেহেতু তিনি এখন বিজেপির বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন বা দলের উগ্র হিন্দুত্ববাদী লাইনের সঙ্গে সহমত নন, তাই তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি সরব হয়ে বলেছেন:
“বিজেপির আইটি সেল এভাবেই কাজ করে। যারা ওদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের চরিত্রহনন করা হয়। যৌন হেনস্থার হুমকি দিয়ে কি মুখ বন্ধ করা যাবে?”
বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া
বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের দাবি, রূপাঞ্জনা সস্তার প্রচার পেতে এই ধরণের অভিযোগ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কী লিখল, তার দায় দলের ওপর চাপানো অন্যায়।
টলিউড ও নেটদুনিয়ায় সমর্থন
রূপাঞ্জনার এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন টলিপাড়ার অনেক সহকর্মী। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের একাংশের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন মহিলাকে যৌন হেনস্থার হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই বরদাস্ত করা উচিত নয়। নেটিজেনদের বড় অংশও এই সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
রূপাঞ্জনা ইতিমধ্যে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর। ভোটের আবহে এক অভিনেত্রীর এমন বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির ভাবমূর্তিতে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার।





