বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি। লোকসভা ভোটের আগে এই রবিবাসরীয় প্রচারে প্রধান তিন প্রতিপক্ষ— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ— যেন একযোগে ময়দানে নেমে পড়লেন। পাল্টাপাল্টি আক্রমণে ভোটের হাওয়া এখন উত্তাল।
রাহুল গান্ধীর ‘৫৬ ইঞ্চি ছাতি’ খোঁচা
বেগুসরাইয়ের জনসভা থেকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করেন। মোদির ‘৫৬ ইঞ্চি ছাতি’ নিয়ে কটাক্ষ করে রাহুল বলেন,
“নরেন্দ্র মোদি এসে বক্তৃতা দেবেন এবং নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সবকিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাবেন। কিন্তু ভোট শেষ হলে তিনি বিহারে এসে আপনাদের কথা শুনবেন না, অন্যত্র চলে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী ভোটের জন্য সবকিছু করতে পারেন। তাঁকে যোগা করে দেখাতে বলুন, তিনি কয়েকটি আসন দেখিয়ে দেবেন।”
তিনি আরও জানান, মহাগঠবন্ধনের সরকার কোনও নির্দিষ্ট জাতের জন্য নয়, বরং সবার জন্য কাজ করবে। সভা শেষে রাহুল বেগুসরাইয়ের একটি পুকুরে উপ-মুখ্যমন্ত্রী মুকেশ সাহানি ও তরুণ নেতা কানহাইয়া কুমারের সঙ্গে মাছও ধরেন।
অমিত শাহের কড়া হুঁশিয়ারি: ‘তিন নতুন দফতর’
অন্যদিকে, মুজফফরপুরের সভা থেকে আরজেডি নেতা লালু-তেজস্বী এবং কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তেজস্বী যাদবকে উদ্দেশ্য করে শাহ হুঁশিয়ারি দেন,
“লালুর পুত্র যদি মুখ্যমন্ত্রী হন, তাহলে বিহারে নতুন তিনটি দফতর খুলতে হবে। একটি থেকে অপহরণের শিল্প চলবে। দ্বিতীয় দফতরের কাজ হবে তোলাবাজি। তৃতীয় দফতর থেকে অপহরণ আর খুনের প্রচার হবে।”
তিনি বিহারবাসীকে আশ্বাস দেন, নীতীশ কুমার ও প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে বন্যা-মুক্ত বিহার তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘সনাতন অপমান’ অস্ত্র
আরা জেলার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসাজশ নিয়ে আক্রমণ করেন। পাশাপাশি, তিনি কংগ্রেস-আরজেডি জোটকে সনাতন ধর্মের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের বিশেষজ্ঞ বলেও তোপ দাগেন।
সম্প্রতি লালুপ্রসাদ যাদবের তাঁর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে ‘হ্যালোউইন’ উৎসব পালনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় বিজেপি প্রচার শুরু করে। এছাড়াও চলতি বছর উত্তরপ্রদেশে কুম্ভমেলার সময় আরজেডি প্রধান লালুর ‘কুম্ভ মেলা ফালতু’ মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী।
“কংগ্রেস-আরজেডি আমাদের চিরাচরিত আস্থার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ। আরজেডি মহাকুম্ভকে ‘ফালতু’ বলেছিল। আর কংগ্রেসের এক নেতা ছটকে ‘নাটক’ বলেছেন। যাঁরা ছটকে অশ্রদ্ধা করে, তাদের এমন শাস্তি দিন যাতে এই কাজ দ্বিতীয়বার না করতে পারে।”
সব মিলিয়ে, বিহার নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের প্রচার এখন তুঙ্গে। আগামী কয়েক দিনে এই রাজনৈতিক চাপান-উতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।