গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ (GTA)-এর শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়সড় মোড়। শুক্রবার নবান্নে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, জিটিএ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই (CBI) তদন্তের ওপর আনা সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ থেকে রাজ্য সরকার নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে পাহাড়ের ওই বহুল চর্চিত নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্তের বাধা কার্যত কেটে গেল।
প্রেক্ষাপট: অভিযোগ রয়েছে যে, জিটিএ-র অধীনে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চারশোরও বেশি শিক্ষককে অবৈধ উপায়ে নিয়োগ করা হয়েছিল। এই বিপুল দুর্নীতির প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট গোটা ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছিল। তবে তদানীন্তন রাজ্য সরকার হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল এবং তদন্তের ওপর ‘স্টে অর্ডার’ বা স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: এদিন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বর্তমান রাজ্য সরকার আর ওই মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকবে না। তিনি বলেন, “জিটিএ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রায় ৪০০-র বেশি অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এখন সিবিআই তদন্ত শুরু হবে। এই দুর্নীতির সঙ্গে যারা যারা যুক্ত, তারা সকলেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আওতায় আসবে এবং আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাহাড়ের রাজনীতিতে প্রভাব: পাহাড়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে নবান্নে আয়োজিত এদিনের বৈঠকে বিমল গুরুংও উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে এই ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে পাহাড়ের রাজনীতিতে বেশ কিছুদিন ধরেই সরগরম ছিল পরিস্থিতি। রাজ্য সরকারের এই পিছু হটার সিদ্ধান্তের ফলে দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে, তা এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা উদঘাটন করতে পারবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে।





