উত্তরপ্রদেশের কানপুরে দলিত সম্প্রদায়ের এক কিশোর এবং তার বাবার ওপর নৃশংস হামলা ও জাতিগত নিগ্রহের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। আধুনিক সমাজের বুকেও জাতপাতের এই ভয়াবহ রূপ প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইতিমিধ্যেই কানপুরের সাচেন্দি থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাচেন্দি এলাকার এক দলিত কিশোর অসাবধানতাবশত তথাকথিত উচ্চবর্ণের এক ব্যক্তির একটি জলের বালতি স্পর্শ করে ফেলে। ‘অস্পৃশ্যতার’ অজুহাত তুলে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে অভিযুক্তরা। কিশোরটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার ওপর চড়াও হয় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। ছেলেকে বাঁচাতে তার বাবা ছুটে এলে, তাঁকেও নির্মমভাবে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, আক্রান্তদের প্রকাশ্যে জাতিগতভাবে চরম হেনস্থা ও গালিগালাজও করা হয়।
ঘটনার পর রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বর্বরতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলিত অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলো ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়েছে কানপুর পুলিশ। সাচেন্দি থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারার পাশাপাশি তপশিলী জাতি ও উপজাতি (SC/ST) নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কানপুর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক টিম গঠন করে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার পর এলাকায় নতুন করে যাতে কোনো উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।





