মুখ্যমন্ত্রীর বারবার কড়া সতর্কবাণী সত্ত্বেও ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগ থেকে পিছু হটছেন না অনেকেই। এবার মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের পাঁচথুপি গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিবের বিরুদ্ধে বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পের ঘর নির্মাণে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য কাটমানি চাওয়ার এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল। পঞ্চায়েত সচিবের সঙ্গে এক উপভোক্তার কথোপকথনের একটি ফোনালাপ ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে রাজ্যজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, যা প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলেছে।
ফোনালাপে ‘৫ হাজার’ টাকার দাবি!
ভাইরাল হওয়া ওই ফোনালাপে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পের ঘরের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেতে হলে পঞ্চায়েতের সচিবকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের পাঁচথুপি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাঁচথুপি দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ষষ্ঠী লেদ এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন।
ষষ্ঠী লেদ জানান, বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর তার বাড়ির অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে পঞ্চায়েত সচিব এবং তার এক সহকর্মী তার বাড়িতে খোঁজখবর করতে আসেন। সেখানেই অভিযোগ ওঠে, পাঁচথুপি পঞ্চায়েতের সচিব তাকে জানান যে, দ্বিতীয় কিস্তির টাকা হাতে পেতে হলে অগ্রিম ৫ হাজার টাকা লাগবে। তাকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে একদিনের মধ্যে টাকা জমা করার কথাও বলা হয়। নিরুপায় হয়ে বাংলা আবাস যোজনার উপভোক্তা ষষ্ঠী লেদ সেই টাকা দিয়েও আসেন বলে অভিযোগ।
বিডিও-র দ্বারস্থ উপভোক্তা, ‘গলা আমার নয়’ দাবি সচিবের
অভিযোগ উঠেছে, কাটমানি নেওয়ার জন্য পঞ্চায়েত সচিব উপভোক্তাকে বারবার ফোনও করেছেন। এবার সেই সমস্ত কল রেকর্ড-সহ পঞ্চায়েত সচিবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বড়ঞা ব্লকের বিডিও-র দ্বারস্থ হয়েছেন পাঁচথুপি গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই বাসিন্দা।
যদিও, অভিযোগের মুখে পাঁচথুপি পঞ্চায়েতের সচিব দেবাশীষ মন্ডল ফোনে কথোপকথনের গলা তাঁর নয় বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনা আবারও রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে নিয়ে এসেছে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং কাটমানি নেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সেখানে এমন অভিযোগ প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সত্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ। পঞ্চায়েত স্তরের এই ধরনের দুর্নীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়াচ্ছে।