বাংলার রাজনীতিতে লড়াই কখনও স্লোগানে, কখনও মিছিলে, আবার কখনও বা পোস্টারে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে লড়াই যে ‘দাড়ির জৌলুসেও’ হতে পারে, তা কার্যত প্রমাণ করে দিলেন হুগলির কানাইপুরের বিজেপি নেতা অচ্ছেলাল যাদব। দীর্ঘ পাঁচ বছরের কঠোর প্রতিজ্ঞা শেষে আজ তিনি নিজের এক ফুটের লম্বা দাড়ি কেটে ফেললেন। অদ্ভুত এই ‘দাড়ির রাজনীতি’ এখন বঙ্গ রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে। তখন অচ্ছেলাল ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোন্নগর প্রাক্তন সহ-সভাপতি এবং প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান। দলীয় এক কর্মী সভায় শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর তীব্র কথা কাটাকাটি এবং বিবাদ বাঁধে। সেই সময় প্রকাশ্যেই জেদ আর অপমানের রাগে অচ্ছেলাল প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, “যেদিন এই অপমানের যোগ্য রাজনৈতিক জবাব দিতে পারব, সেদিনই দাড়ি কামাব।” এরপর দল ত্যাগ করে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। দাড়ি যত বাড়তে থাকে, ততই বাড়তে থাকে তাঁর জেদ। দাড়ি লম্বায় প্রায় এক ফুট হয়ে যায়, অনেকে তাঁকে ঠাট্টা করে ‘রাজনীতির ঋষি’ বা ‘সাধু’ বলেও ডাকতে শুরু করেন।
এবারের নির্বাচনে উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শিরাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের দিকে। কিন্তু ফলাফল বেরোতেই দেখা যায়, বিজেপির দীপঞ্জন চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হয়েছেন সাংসদ-পুত্র। একদিকে কল্যাণ-পুত্রের হার, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলায় নতুন সরকারের সূচনা—অচ্ছেলালের কাছে এটিই ছিল মোক্ষম জবাব দেওয়ার সময়।
আজ সোমবার, যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী প্রথম কর্মদিবসে নবান্নে প্রবেশ করছেন, ঠিক তখনই ঘটা করে নিজের ৫ বছরের জমানো দাড়ি কেটে ফেললেন অচ্ছেলাল। তাঁর অনুগামীরা বলছেন, এটি কেবল দাড়ি কাটা নয়, এটি একটি রাজনৈতিক জেদ আর অপমানের বদলা। অচ্ছেলাল বলেন, “ব্যবসা করা অপরাধ নয়, কিন্তু অহংকার আর চুরি অপরাধ। আজ আমার লড়াই পূর্ণতা পেল।” কোন্নগর থেকে কানাইপুর, অচ্ছেলালের এই ভোলবদল দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। রাজনীতির ইতিহাসে এই ‘দাড়ি-কাণ্ড’ নিঃসন্দেহে এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে।





