কলকাতা মহানগরীর মুকুটে জুড়তে চলেছে নতুন পালক। দীর্ঘদিনের অবহেলা, জঙ্গল আর আগাছায় ঢাকা পড়ে থাকা বেহালা বিমানবন্দর (Behala Airport) ফের পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পথে। শহরের মূল কেন্দ্র থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটিকে পুনরায় কার্যকর করে তোলার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র—উভয় তরফেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকার পর এই বিমানবন্দরটি এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে।
১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিমানবন্দরটির রানওয়ে প্রায় ১.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। একসময় এটি পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য বিখ্যাত থাকলেও, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং সীমানা প্রাচীরের জটিলতায় বিগত কয়েক দশকে এটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তবে পালাবদলের এই সময়ে রাজ্যের শিল্পায়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে সরকার বেহালা বিমানবন্দরকে নতুন জীবন দিতে উদ্যোগী হয়েছে।
বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এই প্রকল্পের মূল সারথি হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ইতিমধ্যেই আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের সঙ্গেও তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত চিঠিও পাঠিয়েছেন। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও এই উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন, যা বিমানবন্দরটি চালুর পথে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI) সূত্রে জানা গেছে, বেহালা বিমানবন্দর চালুর পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা ছিল এর সীমানা প্রাচীরের অভাব এবং জমির দখলদারির সমস্যা। নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণ করতে বিমানবন্দরের চারপাশ ঘিরে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর থাকা বাধ্যতামূলক। দীর্ঘ বছর ধরে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় এই কাজ থমকে থাকলেও, এবার নতুন উদ্যমে তা শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বেশ কয়েকটি ধাপে এর সংস্কার ও আধুনিকীকরণ সম্পন্ন করা হবে। সীমানা চিহ্নিত করা এবং প্রাচীর নির্মাণের কাজই হবে সংস্কারের প্রথম ও প্রধান ধাপ।
অতীতে একাধিকবার বেহালা ফ্লাইং ক্লাবকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালানো হলেও তা সফল হয়নি। পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বিমানবন্দরটিকে ফের বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য বহুবার পরিকল্পনা করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা ব্যর্থতার মুখ দেখেছে। তবে এবারের পরিস্থিতি খানিকটা ভিন্ন। বর্তমান রাজ্য সরকার শিল্পায়ন ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে যে বিশেষ জোর দিচ্ছে, তাতে বেহালা বিমানবন্দরের গুরুত্ব অনেক গুণ বেড়ে গেছে।
প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে এখান থেকে চার্টার্ড বিমান এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পুনরায় চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে। এটি কার্যকর হলে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বিরাট পরিবর্তন আসবে। কলকাতার দ্বিতীয় এই বিমানবন্দরটি চালু হলে তা কেবল যাত্রীবাহী পরিষেবাই নয়, বরং এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা পালন করবে। জঙ্গল ও আবর্জনায় ঢাকা পড়া এই রানওয়ে কি তবে ফের বিমানের গর্জনে কেঁপে উঠবে? এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।





