কলকাতায় আজ ৫ লাখ হিন্দুর গীতা পাঠের আয়োজন, একদিন আগেই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের মডেলের ভিত্তিপ্রস্তর, বিতর্কের কেন্দ্রে বাংলার রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আজ (৭ ডিসেম্বর) প্রায় পাঁচ লাখ হিন্দু ধর্মীয় অনুসারীদের নিয়ে এক বিশাল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা দাবি করেছেন, এই আধ্যাত্মিক জাগরণের কর্মসূচিতে যোগ গুরু বাবা রামদেব এবং ধর্মীয় গুরু ধীরেन्द्र শাস্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। যদিও এই বিশাল সমাবেশের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ ঠিক তার একদিন আগেই ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় অযোধ্যার বাবরি মসজিদের মডেলের ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল।

কারা থাকছেন গীতা পাঠে?

‘সনাতন সংস্কৃতি সংসদ’ (বিভিন্ন মঠের আধ্যাত্মিক গুরুদের একটি সংগঠন) আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস-এর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “একসাথে পাঁচ লাখ গীতা পাঠ” নামের এই অনুষ্ঠানে বাবা রামদেব, ধর্মীয় গুরু ধীরেन्द्र শাস্ত্রী এবং কার্তিক মহারাজ উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এবং গীতা পাঠে অংশ নেবেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, গীতার প্রথম, নবম এবং অষ্টাদশ অধ্যায় একসাথে পাঠ করা হবে। ভারত সেবাশ্রম সংঘের বেলডাঙ্গা শাখার প্রধান কার্তিক মহারাজ বলেছেন, “আমরা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেব।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ

আয়োজকরা জানিয়েছেন, রাজ্যপাল ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, কিন্তু তাঁর দফতর এখনও কোনো উত্তর দেয়নি। আয়োজকদের দাবি, এটি একটি সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর

এই গীতা পাঠের ঠিক একদিন আগে, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুঁ কবিরের নেতৃত্বে এক বিশাল জনসমাবেশে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে চার লাখেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

হুমাযুঁ কবিরকে সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে সাসপেন্ড করেছে। পুলিশ, আরএএফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কবির মৌলবীদের সঙ্গে মঞ্চে প্রতীকী ফিতে কাটেন। যদিও মসজিদের মূল নির্মাণস্থল অনুষ্ঠানস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ছিল। ভিড়ের মধ্যে অনেকে প্রতীকী ইট মাথায় নিয়ে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দেন। কবির জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি কোনো অসাংবিধানিক কাজ করছি না। উপাসনালয় তৈরি করা একটি সাংবিধানিক অধিকার। বাবরি মসজিদ তৈরি হবে।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy