করোনার পর এবার হান্টাভাইরাসের তাণ্ডব! ১২ দেশে WHO-এর রেড অ্যালার্ট, মাঝসমুদ্রে প্রমোদতরীতে মৃত্যুমিছিল

কোভিড-১৯ মহামারীর ক্ষত না শুকাতেই বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হান্টাভাইরাস’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে ১২টি দেশকে কড়া সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন ডাচ প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রমোদতরীতে ইতিমধ্যেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৪৯ জন যাত্রী বর্তমানে সেখানে আটকা পড়েছেন।

কী এই হান্টাভাইরাস?

হান্টাভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা মূলত ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। ইঁদুরের লালা, মল বা প্রস্রাবের সংস্পর্শে এলে একজন সুস্থ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। যদিও এটি করোনা ভাইরাসের মতো সহজে বায়ুবাহিত হয়ে ছড়ায় না, তবে একবার শরীরে প্রবেশ করলে এটি মানুষের কিডনি এবং ফুসফুসকে তছনছ করে দেয়।

অঙ্গ বিকল করার মারণ ক্ষমতা:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই ভাইরাস সরাসরি কিডনির ফিল্টারিং ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে। এর ফলে শরীরে রক্তক্ষরণজনিত জ্বর (HFRS) দেখা দেয় এবং দ্রুত প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গিয়ে কিডনি বিকল হতে শুরু করে। এশিয়া ও ইউরোপে এই ভাইরাসের প্রভাব কিডনির ওপর বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে, আমেরিকায় এটি ‘হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিন্ড্রোম’ (HPS) তৈরি করে, যেখানে ফুসফুসে জল জমে যায় এবং রোগী প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ভোগেন। রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা হারানো এই ভাইরাসের অন্যতম মারণ লক্ষণ।

লক্ষণ ও বিপদসীমা:

প্রাথমিক অবস্থায় হান্টাভাইরাসকে সাধারণ ফ্লু বলে মনে হতে পারে। সংক্রমণের ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রচণ্ড জ্বর, পেশী ব্যথা, মাথা ঘোরা এবং পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে ৪-১০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রোগীর অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হতে শুরু করে। চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

প্রতিকার ও সতর্কতা:

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, হান্টাভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। ইঁদুর মুক্ত পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এই ভাইরাস থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের সাথে যদি ইঁদুরের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস থাকে, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy