কমিশনের দিন শেষ! আমুলের ধাঁচে এবার ক্যাব ব্যবসায় ‘ডিজিটাল বিপ্লব’, চালকরাই এখন মালিক!

সমবায়ের নাম শুনলে এতদিন আমুলের দুধ বিপ্লবের ছবিই মনে ভেসে উঠত। কিন্তু এবার গুজরাটের রাস্তা কাঁপিয়ে শুরু হয়েছে এক নতুন ডিজিটাল বিপ্লব—‘ভারত ট্যাক্সি’। এটি কেবল একটি রাইড-হেইলিং অ্যাপ নয়, বরং হাজার হাজার ‘সারথী’ বা চালকের আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধির এক অনন্য গাথা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সহকার সে সমৃদ্ধি’র স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে এই উদ্যোগটি প্রযুক্তি এবং মানবিক মর্যাদার এক অসামান্য মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে। ৫ই ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ এই প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেন।

আমুলের এমডি এবং ভারত ট্যাক্সির চেয়ারম্যান জয়েন মেহতা একে ‘পরিবহন খাতের বড় বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, ভারত ট্যাক্সি বিশ্বের প্রথম চালক-মালিকানাধীন গতিশীলতা সমবায়, যেখানে রাইড থেকে উপার্জনের ১০০ শতাংশই কোনো কর্তন ছাড়াই সরাসরি চালকের পকেটে পৌঁছায়। প্রচলিত অ্যাগ্রিগেটর সংস্থাগুলো যেখানে চালকদের উপার্জনের বড় অংশ কমিশন হিসেবে কেটে নেয়, সেখানে এই সমবায় মডেল চালকদের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার পর চালকদের গড় মাসিক আয় ২৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবীণ থাকোর নামক এক চালক বলেন, “আগে অন্যান্য কোম্পানিতে কাজ করে লাভ হতো না, কিন্তু এখানে আমরা নিজেদের মালিক বলে মনে করি।”

যাত্রীদের জন্যও এই মডেল আশীর্বাদস্বরূপ। বেসরকারি সংস্থাগুলোর ‘সার্জ প্রাইসিং’ বা অনিয়মিত ভাড়ার অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিয়ে ভারত ট্যাক্সি এনেছে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল ভাড়া কাঠামো। এর ফলে যাত্রীরা গড়ে ১৫% পর্যন্ত কম ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারছেন। চালক জনক বারোটের কথায়, “আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে চার্জ করছি, ফলে যাত্রী ও চালক—উভয়েই লাভবান হচ্ছেন।” আহমেদাবাদ ও সুরাটে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার ভাদোদারাতেও সংস্থাটি তাদের পরিষেবা সম্প্রসারণ করতে চলেছে।

গুজরাটে ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ চালক এই প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত হয়েছেন এবং দেশজুড়ে এই সংখ্যা ৬ লক্ষ ছাড়িয়েছে। অ্যাপটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে আহমেদাবাদ রিকশা চালক ঐক্য ইউনিয়নের সভাপতি অজয় কুমার গুপ্ত জানান, “এটি একটি ভারতীয় কোম্পানি এবং কোনো কমিশন না কাটায় চালকরা এতে যোগ দিতে মুখিয়ে আছেন।”

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ভারত ট্যাক্সি অনন্য। গুজরাট পুলিশের সাথে সরাসরি এসওএস (SOS) সংযোগ একে একটি ‘সুরক্ষা ঢাল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। সোমনাথ ও দ্বারকাধীশের মতো তীর্থস্থানগুলোতেও নির্দিষ্ট রুট চালু করে এটি সাধারণ মানুষের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এছাড়া ১০,০০০-এরও বেশি চালককে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সফট স্কিলের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মেট্রো, জিএসআরটিসি এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বিত এই পরিবহন ব্যবস্থা গুজরাটের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন করে তুলেছে। ভারতের এই ডিজিটাল সমবায় মডেল এখন বিশ্বজুড়ে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপনের পথে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy