হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো মহাশিবরাত্রি। মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় এই পবিত্র উৎসব। পুরাণ মতে, এদিনই মহাদেব ও দেবী পার্বতী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ভক্তদের বিশ্বাস, নিষ্ঠাভরে ব্রত পালন করলে মহাদেব শিব ভক্তের সব মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন। ২০২৬ সালে মহাশিবরাত্রি পালিত হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার।
তিথি ও শুভ মুহূর্ত: ২০২৬ সালের শিব চতুর্দশী তিথি শুরু হচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে এবং শেষ হবে পরদিন অর্থাৎ ১৬ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৩২ মিনিটে। শাস্ত্র অনুযায়ী, মহাশিবরাত্রির পুজোর সবথেকে মাহাত্ম্যপূর্ণ সময় হলো নিশীথ কাল। এদিন সাধারণত ভক্তরা চার প্রহরে শিবের মাথায় জল ঢালেন। নিয়ম অনুযায়ী, চতুর্দশী তিথি শুরু হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস থেকে ব্রত সমাপ্ত করতে হয়।
ব্রত পালনের নিয়ম ও সংযম: মহাশিবরাত্রির আগের দিন থেকেই শুরু হয় সংযম। এদিন কোনোভাবেই আমিষ আহার গ্রহণ করা যায় না। ভক্তরা সাধারণত আতপ চালের ভাত বা ময়দার খাবার খেয়ে থাকেন, তবে রান্নায় সাধারণ লবণের বদলে ব্যবহার করতে হয় সৈন্ধব লবণ। ব্রতের দিন নির্জলা উপবাস থেকে দেবাদিদেবের আরাধনা করাই নিয়ম। যারা সারা দিন উপোস রাখতে পারেন না, তারা ফল বা দুধ পান করতে পারেন।
পুজোর উপকরণ ও নিবেদন: শিবের পুজোর প্রধান উপকরণ হলো পঞ্চামৃত— দুধ, ঘি, মধু, চিনি ও গঙ্গাজলের মিশ্রণ। এছাড়া শিবের অত্যন্ত প্রিয় বেলপাতা, ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা এবং কলকে ফুল দিয়ে পুজো করলে তিনি দ্রুত সন্তুষ্ট হন। মনে রাখা প্রয়োজন, মহাদেব সামান্য বেলপাতা এবং ভক্তিপূর্ণ জল নিবেদনেই ভক্তের উপর কৃপা বর্ষণ করেন।