ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলার সুলপাগা গ্রামে এক ঐতিহাসিক বিবাহের সাক্ষী থাকলেন গ্রামবাসীরা। দেবমুনি এক্কা এবং বিলাসুস বরওয়ার এই মিলন সামাজিক ব্যবধান ঘুচিয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয় ‘মাসি’ প্রথা অনুসারে সম্পন্ন হওয়া এই বিয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল— এখানে কন্যাদান করা হয়নি, বরং বরের বাবা-মা তাঁদের ছেলের হাত তুলে দিয়েছেন কনের হাতে, যাকে বলা হচ্ছে ‘বরদান’।
ছেলের অভাব মেটালেন জামাই
কনের বাবা মোহন এক্কা একজন সাধারণ কৃষক এবং তাঁর চার মেয়ে থাকলেও কোনো পুত্রসন্তান নেই। বৃদ্ধ বয়সে কৃষিকাজ দেখাশোনা এবং পরিবারের দেখাশোনার চিন্তায় তিনি স্থির করেন, মেয়েকে এমনভাবে বিয়ে দেবেন যাতে তিনি জামাই নয়, বরং একজন পুত্র পান। সামাজিক প্রথা ভেঙে কনেপক্ষই শোভাযাত্রা নিয়ে বরের বাড়িতে উপস্থিত হয়। বরের পরিবারও সানন্দে এই সিদ্ধান্তে রাজি হন।
যৌতুকহীন বিয়ে ও অশ্রুসিক্ত বিদায়
এই বিয়েতে কোনো যৌতুকের লেনদেন হয়নি। বরং বিদায়বেলায় দেখা গেল এক অনন্য দৃশ্য— কনের বদলে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় বর বিলাসুস কান্নায় ভেঙে পড়লেন। উপস্থিত গ্রামবাসীরা জানান, তাঁদের জীবনে এই প্রথম তাঁরা কোনো মেয়েকে বরযাত্রী নিয়ে আসতে দেখলেন।





