আগামীকাল বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। দেশজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে থাকলেও, পরিসংখ্যান কিন্তু স্বস্তিতে নেই। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ‘মেন ইন ব্লু’-র অন্দরে এখনও বেশ কিছু ফাটল রয়ে গিয়েছে। সেমিফাইনালের মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে যা কাল হতে পারে।
১. ওপেনিং জুটির ব্যর্থতা ও মিডল অর্ডারে চাপ:
সঞ্জু স্যামসন ফর্মে থাকলেও তাঁর সঙ্গী অভিষেক শর্মার ব্যাটে রান নেই। গোটা বিশ্বকাপে অভিষেক ও সূর্যকুমার যাদবের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র একটি করে হাফসেঞ্চুরি। অভিষেক গত ম্যাচে মাত্র ১৫ রানে ফিরেছেন, এমনকি টুর্নামেন্টের শুরুতে টানা তিন ম্যাচে খাতা খুলতে পারেননি। ওপেনাররা দ্রুত আউট হওয়ায় মিডল অর্ডারের ওপর দ্বিগুণ চাপ তৈরি হচ্ছে, যা ইংল্যান্ডের বোলিং অ্যাটাকের সামনে বিপজ্জনক হতে পারে।
২. পাওয়ার প্লে-তে উইকেটের পতন:
ভারতের দ্বিতীয় বড় মাথাব্যথা হলো পাওয়ার প্লে-তে ব্যাটিং বিপর্যয়। প্রথম ৬ ওভারের মধ্যেই কখনও ১টি আবার কখনও ৩টি করে উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে দল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাওয়ার প্লে-তে যদি শক্ত ভিত তৈরি না হয়, তবে বড় রানের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
৩. ল্যাজেগোবরে ফিল্ডিং (ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস):
এবারের বিশ্বকাপে ভারতের ফিল্ডিং মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। টিম ইন্ডিয়া এখনও পর্যন্ত মোট ১৩টি ক্যাচ ফসকেছে, যা টুর্নামেন্টের যে কোনো দলের তুলনায় সর্বোচ্চ। ক্যাচিং দক্ষতা মাত্র ৭১.৭ শতাংশ। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে বাটলার বা সল্টদের ক্যাচ ফসকানো মানেই পরাজয় নিশ্চিত।
৪. বুমরাহ-নির্ভর বোলিং ও বরুণের অফ-ফর্ম:
ভারতীয় বোলিং আক্রমণ এখন পুরোপুরি জসপ্রীত বুমরাহ-নির্ভর। লিগ পর্বে ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ বরুণ চক্রবর্তী নজর কাড়লেও সুপার এইটে তাঁর ধার কমেছে। অন্যদিকে, আর্শদীপ সিং শুরুতে সুইং করালেও ডেথ ওভারে প্রচুর রান বিলিয়ে দিচ্ছেন। হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল কিংবা শিবম দুবের বোলিংয়েও সেই আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
ওয়াংখেড়ের পাটা উইকেটে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ অত্যন্ত বিধ্বংসী। ভারত কি পারবে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এই ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে? নজর থাকবে সেদিকেই।