এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন কি আকাশছোঁয়া খরচ? ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটির অংক শুনলে চমকে উঠবেন!

মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখা মানেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো। অদম্য সাহসের প্রতীক এই অভিযান রোমাঞ্চপ্রেমীদের কাছে স্বপ্নের সমান। কিন্তু এই স্বপ্নপূরণ কেবল শারীরিক শক্তির ওপরই নির্ভর করে না, এর জন্য প্রয়োজন হয় বিশাল অঙ্কের অর্থ। সম্প্রতি ২১ বছর বয়সি ভারতীয় পর্বতারোহী সানিকা শাহ সফলভাবে এভারেস্ট জয় করে নতুন নজির গড়েছেন। এর আগে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে ভরতনাট্যম পরিবেশন করে তিনি বিশ্বজুড়ে শিরোনামে এসেছিলেন। সানিকার এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিপুল আর্থিক ব্যয়ের বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সাধারণত একজন ভারতীয় পর্বতারোহীর জন্য এভারেস্ট অভিযানের খরচ ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই বিপুল অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় হয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায়। নেপাল সরকার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে পারমিট ফি ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে প্রথম। বসন্তকালে এভারেস্ট আরোহণের জন্য পারমিট ফি জনপ্রতি ৯.০৫ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৩৫ লক্ষ টাকায়।

অভিযানের খরচের প্রধান খাতগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শেরপা গাইড নিয়োগের জন্য খরচ হয় ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা। সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর পর শেরপাদের ‘সামিট বোনাস’ হিসেবে অতিরিক্ত ১.৫ থেকে ১.৭ লক্ষ টাকা প্রদান করতে হয়। এছাড়া পর্বতারোহণের বিশেষায়িত সরঞ্জাম—যেমন ইনসুলেটেড স্যুট, বিশেষ বুট, অক্সিজেন মাস্ক এবং স্লিপিং ব্যাগের পেছনে ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়।

বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশটি (২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা) ব্যয় হয় পরিবহন, অক্সিজেন সিলিন্ডার, ক্যাম্প স্থাপন এবং খাবারের মতো লজিস্টিক ব্যবস্থায়। তবে যারা ‘লাক্সারি প্যাকেজ’ বেছে নেন, তাদের খরচ ৮০ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। এছাড়া অ্যাডভেঞ্চার বিমা বাবদ ১.৩ লক্ষ টাকা এবং হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযানের ঝুঁকি তো রয়েছেই। উচ্চতাজনিত অসুস্থতা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় পাহাড়ের চূড়ায় আটকে পড়লে হেলিকপ্টার রেসকিউয়ের খরচ কয়েক লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সব মিলিয়ে, এভারেস্ট অভিযান কেবল অদম্য জেদ নয়, বরং বিশাল বিনিয়োগেরও দাবি রাখে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy