পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মাহেন্দ্রক্ষণ কি তবে উপস্থিত? রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকারের আগমনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই বিষয়—’সপ্তম বেতন কমিশন’ (7th Pay Commission)। ১০ মে ২০২৬-এর পরিস্থিতি অনুযায়ী, মহাকরণ থেকে নবান্ন—সর্বত্রই এখন কর্মচারীদের মুখে মুখে ফিরছে বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক। প্রশ্ন একটাই, ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে এই নতুন কাঠামো?
নির্বাচনী প্রচারের উত্তাল সময়ে গত ৯ এপ্রিল পূর্ব মেদিনীপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন ঘোষণা করা হবে। এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একধাপ এগিয়ে ঘোষণা করেন, সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই এই সুপারিশগুলি বাস্তবায়ন করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথেই এখন কর্মচারীদের প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে।
কেন এই পরিবর্তন কর্মীদের জন্য গেম-চেঞ্জার?
সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হলে কেবল যে বেতন বাড়বে তা নয়, বরং এর সাথে আমূল বদলে যাবে কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান। ৫টি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা:
১. সংশোধিত পে-ম্যাট্রিক্স: ষষ্ঠ বেতন কমিশনের পুরনো ও জটিল স্কেল পদ্ধতি বাতিল করে একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ‘পে-ম্যাট্রিক্স’ চালু করা হবে। যেখানে পারফরম্যান্স এবং কাজের দক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির সরাসরি যোগসূত্র থাকবে।
২. ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ম্যাজিক: বেতন নির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। সপ্তম বেতন কমিশন অনুযায়ী ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ব্যবহার করা হলে কর্মচারীদের মূল বেতন (Basic Pay) এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে।
৩. ভাতার পুনর্বিন্যাস: আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতির বাজারে মহার্ঘ ভাতা (DA), বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং যাতায়াত ভাতা নতুন করে সংশোধন করা হবে, যা কর্মীদের হাতে পাওয়া বেতনের (Take-home salary) পরিমাণ বৃদ্ধি করবে।
৪. পেনশনভোগীদের স্বস্তি: এই কাঠামো শুধুমাত্র কর্মরতদের জন্যই নয়, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
৫. আর্থিক স্বচ্ছতা: নতুন ব্যবস্থায় বেতন কাঠামো অনেক বেশি সুসংগঠিত হবে, যা গ্রেড-পে সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর করতে সাহায্য করবে।
বর্তমানে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী অধীর আগ্রহে সেই সরকারি বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার প্রথম কয়েকটি বৈঠকের মধ্যেই বেতন কমিশন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি হতে পারে। যদিও এটি বর্তমানে একটি ‘প্রত্যাশিত নীতিগত পদক্ষেপ’, তবে শাহ- মোদীর দেওয়া ‘৪৫ দিনের প্রতিশ্রুতি’ বাস্তবায়িত হলে মে মাসের শেষ বা জুন মাসের শুরুতেই খুশির খবর পেতে পারেন বাংলার রাজ্য সরকারি কর্মীরা।





