লোকসভা ভোটের দামামা বাজতেই ফের একবার আক্রমণাত্মক মেজাজে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের জনসভা থেকে বিজেপিকে এক চুল জমি ছাড়তে নারাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গলায় এবার শোনা গেল ‘তিন প্র’-এর হুঙ্কার। অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, এবারের নির্বাচন স্রেফ ভোট নয়, বরং এটি হল— ‘প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং প্রতিশোধের ভোট’।
কেন এই ঝাঁঝালো আক্রমণ? ভাতারের হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে নাম না করে দিল্লির বিজেপি নেতৃত্বকে নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বাংলার সাধারণ মানুষের ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা হয়েছে। ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে আবাস যোজনার টাকা— সবক্ষেত্রেই বাংলাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আর এই ‘বঞ্চনা’র জবাব ব্যালট বক্সে দিতেই জনগণের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
ভাষণের মূল পয়েন্টগুলি একনজরে:
প্রতিবাদ: কেন্দ্রের বঞ্চনা এবং দিল্লির ‘দাদাগিরি’র বিরুদ্ধে সরব হতে হবে।
প্রতিরোধ: বহিরাগত শক্তির প্রবেশ রুখতে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার বার্তা।
প্রতিশোধ: গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করে এই অপমানের বদলা নেওয়ার ডাক।
বিজেপিকে কড়া নিশানা: অভিষেক বলেন, “বিজেপি মনে করছে ইডি-সিবিআই দিয়ে আমাদের ভয় দেখাবে। কিন্তু ওরা জানে না, বাংলার মানুষ মাথা নত করতে জানে না।” তিনি আরও যোগ করেন, পূর্ব বর্ধমানের মাটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি, আর এখান থেকেই বিজেপির পতনের কাউন্টডাউন শুরু হবে।
রাজনৈতিক উত্তাপ: অভিষেকের এই ‘প্রতিশোধ’-এর ডাক নিয়ে ইতিমধ্যেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে কর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং ভোটারদের আবেগকে উস্কে দিতেই এই রণকৌশল নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
আসন্ন নির্বাচনে ভাতারের এই ‘গর্জন’ ভোটের বাক্সে কতখানি প্রতিফলন ঘটায়, এখন সেটাই দেখার।





