এনআরসি এবং বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, বাংলায় এনআরসি চলবে না, দরকার হলে জীবন দেবো

কেন্দ্রীয় সরকারের “বিরাট গেমপ্ল্যান” এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আজ বোলপুরে ভাষা আন্দোলনের সূচনার দিনে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি কেন্দ্রের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও নিশানা করে তিনি বলেন, “আমি বলছি, দেশ ভেঙে যেতে পারে এই অপদার্থ নীতির জন্য। বিরাট গেমপ্ল্যান আছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার যে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে এসেছে… আপনি সরকারের হয়ে এনআরসির খেলায় নেমেছেন?”

সোমবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, বাংলায় কোনও মানুষের নাম যদি বাদ যায়, তবে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “বাংলায় যদি কারও নাম বাদ যায়, তাহলে দামামা বাজবে। ছৌ নাচ দেখবেন, ধামসা-মাদল বাজবে, শঙ্খ, উলুধ্বনি হবে। আমি বেঁচে থাকতে বাংলায় এনআরসি করতে দেব না। দরকার হলে জীবন দেব, কিন্তু বাংলার মাটি থেকে ভাষা ও ঠিকানা কেড়ে নিতে দেব না।”

মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেন যে, “সরকারের হয়ে এখন কমিশন এনআরসি খেলায় নেমেছে। মানুষের ঠিকানা কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বাংলার ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।” তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “চিন্তা নেই, আমরা গুলি-বন্দুক নিয়ে নামব না। আমরা শঙ্খ বাজাব, কাঁসর-ঘণ্টা বাজাব। আমাদের প্রতিবাদ হবে শান্তিপূর্ণ, কিন্তু বজ্রনিনাদে।”

বিজেপিকে নিশানা করে মমতা আরও বলেন, “ভাবছো ক্ষমতায় আছো বলে যা খুশি করবে? মনে রেখো, তোমাদের সরকার ২০২৯ অবধি চলবে না।” কটাক্ষের সুরে তিনি যোগ করেন, “জমিদারি! যেন দেশটা শুধু ওদের! আমি বলে রাখছি, জমিদারি মানুষের, তোমাদের নয়।” সম্প্রতি গুজরাটে বাঙালি শ্রমিকদের সঙ্গে হওয়া বৈষম্যের ঘটনা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা যখন আপনাদের চায় না, তাহলে ওখানে থাকার কী দরকার? চলে আসুন, আমরা কাজের ব্যবস্থা করে দেব। একটা রুটি থাকলে ভাগ করে খাব।”

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, বর্তমানে বাংলায় দেড় কোটির বেশি হিন্দিভাষী পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন এবং তিনি তাদের কখনও বাংলা ছাড়তে বলেননি। তিনি বলেন, “বাংলা সবকে আশ্রয় দেয়, আমরা বিভাজনের রাজনীতি করি না। কিন্তু কেউ যদি বাঙালির ঠিকানা কেড়ে নিতে আসে, আমরা পিছু হাঁটিয়ে ছাড়ব।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বাংলার ভাষা, পরিচয় এবং সংস্কৃতি তার গর্ব ও অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে যে তীব্র প্রতিবাদ হবে, সেই বার্তাও এদিন স্পষ্ট করেছেন তৃণমূল নেত্রী। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী ‘ভাষা আন্দোলন’-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন। বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষের হেনস্থার অভিযোগ এবং সম্প্রতি বিহারে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের বিতর্ক – এই দুটি বিষয়কেই মমতা তার আক্রমণের হাতিয়ার করেছেন। বাংলাতেও SIL বা তালিকার নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, “একটা মানুষের ঠিকানা কেড়ে নেওয়া হলে তোমাদের ঠিকানাও থাকবে না।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy